বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইনসুলিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নভো নরডিস্ক বাংলাদেশে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থানান্তর করবে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ বেশ কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার নভো নরডিস্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনান্দ শেঠী এবং এসকেএফ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন হোসেন যৌথভাবে এ ইনসুলিন প্রস্তুতের একটি চুক্তি সাক্ষর করেছেন।

চুক্তির ফলে এখন বাংলাদেশে ড্যানিশ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদিত হবে উচ্চ গুণসম্পন্ন ইনসুলিন। রাজধানীর সোনারগাও হোটেলে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন।

উদ্যোগের শুরুতে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা ডেনর্মাকের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, এশিয়া হাউস, ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি, নভো নরডিস্কের প্রধান কার্যালয় ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইনসুলি উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এরপরই ইনসুলিন প্রযুক্তি সরবরাহ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে নভো নরডিস্ক।

ডায়াবেটিস সচেতনতা, প্রতিরোধ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সারা বিশ্বে কাজ করছে নভো নরডিস্ক। এ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বের মানুষ পরাজিত করতে পেরেছে স্থুলতা, হেমফিলিয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাসহ গুরতর দীর্ঘস্থায়ী নানা রোগ।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অ-সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে ডায়াবেটিসকে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যাবৃদ্ধি রোধে ও এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে প্রয়োজন সচেতনতা ও সঠিক সময়ে চিকিৎসসহ গুণসম্পন্ন পর্যাপ্ত ইনসুলিন সরবরাহ।

চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দেশেই আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদন হবে এবং সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা। এছাড়া জাতিসংঘের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যেই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারকে সহায়তা করবে এ উদ্যোগ।

নভো নরডিস্কের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট শবনম আভসার টুনা বলেন, ডায়াবেটিসের সঙ্গে বসবাস করা রোগীদের জন্য বাংলাদেশে প্রায় ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছে নভো নরডিস্ক। আরও অধিকতর সেবাদানের লক্ষ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে আধুনিক ইনসুলিন উৎপাদনে আমরা যুক্ত হয়েছি এসকেএফ-এর সাথে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনর্মাকের রাষ্ট্রদূত মাইকেল হেমিনিটি উইন্হার বলেন, ডেনমার্ক ও বাংলাদেশের সর্ম্পককে আরও মজবুত করতে এ উদ্যোগ অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। আজকের ঘটনাটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, ডেনমার্ক যার অংশ হতে পেরে গর্ববোধ করছে। আশা করছি স্বাস্থ্য খাতে আরও অনেক কাজই আমরা একসঙ্গে করতে পারব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মাঝে নভো নরডিস্কের আফ্রিকা, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ওসানিয়া অঞ্চলের কর্পোরেট ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) লারস বো স্মিথ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিউজ্জামান, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভলপমেন্ট অথরিটির এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম, ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েসন অব বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট একে আজাদ খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি রেক্সোনা কাদের উপস্থিত ছিলেন।

print