স্টাফ রিপোর্টার : পিরোজপুর জেলায় জায়গা-জমির বিক্রি প্রতি বছর কমে যাচ্ছে। আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় জায়গা-জমির বিক্রি কমে যাচ্ছে অনেকে মনে করছেন। পিরোজপুরে জেলা রেজিস্ট্রার-এর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ সালে এ জেলায় জায়গা-জমি বিক্রির ২৪ হাজার ৩শত ৬২টি দলিল রেজিস্ট্রি হলেও ২০১৫ সালে এ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৮শত ৩৬টিতে। ২০১৬ সালে রেজিস্ট্রি দলিলের সংখ্যা ২ হাজার ১শত ৬৩টি কমে ২১ হাজার ৬শত ৭৩ এ দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে ২০১৬ সালের চেয়ে ২শত ৬১টি কমে ২১ হাজার ৪শত ১২টি হয়েছে।জায়গা-জমি ক্রমশঃ বিক্রি কমে যাবার কারণ জানতে চাইলে সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ণ পরিষদের চেয়ারম্যান জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মোঃ চাঁন মিয়া মাঝি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে মাথাপিছু গড় আয় এখন ১৬শ ১০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একদিকে সার বীজসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হওয়ায় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষক কৃষি পণ্যের ন্যায্য মুল্য পাওয়ায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছে। এছাড়া অনেকের আত্মীয়-স্বজন বিদেশে থেকে টাকা পাঠাচ্ছে। হাজার হাজার নারী পুরুষ বয়ষ্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ বিভিন্ন ধরনের ভাতা পাচ্ছে। কৃষি ও নির্মাণ শ্রমিকরা প্রতিদিন কাজ পাচ্ছে এবং তাদের মজুরীও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে তাদের হাতে কিছু টাকা-পয়সা থাকে। তাই মেয়ের বিয়ে বা নিজেদের চিকিৎসার জন্য এবং অন্য কোন প্রয়োজনে জায়গা-জমি বিক্রির প্রয়োজন পড়ছে না।এছাড়া ব্যাংক থেকে সহজশর্তে হয়রানি ছাড়া ঋণ পাওয়ায় মানুষ তাদের অর্থের প্রয়োজন মেটাতে পারছে। পিরোজপুরের জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ হুমায়ুন কবির জানান, অভাব-অনটন হ্রাস পাওয়ায় জায়গা-জমির বিক্রি কমে গেছে। তাই দলিল রেজিস্ট্রির সংখ্যাও কমে যাচ্ছে । এতে রাজস্ব আয় কমলেও এটা আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ইতিবাচক।

print