স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ বিভাগের গুরুত্ত্বপূর্ন ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র । মাতৃসদন নামে পরিচিত পিরোজপুরের এ প্রতিষ্ঠানটিতে বন্ধ হয়ে গেছে গর্ভবতী মায়েদের সিজারিয়ান অপারেশন। ফলে বিরম্বনার স্বীকার হতে হচ্ছে গর্ভবতী মায়েদের। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের মায়েদের দূভোর্গ চরমে পৌছেছে। এ মাতৃসদনের এনেসথাসিয়া ডাক্তার না থাকায় বন্ধ রয়েছে সিজারিয়ান অপারেশানের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম। এর আগেও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসক কর্মচারীদের মধ্যে জটিলতার কারনে একাধিকবার বিঘিœত হয়েছে সেবা কার্যক্রম।
জানা যায়,পিরোজপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে গর্ভকালীন নারীদের সেবা গ্রহনের হার তুলনামুলক বেশি। বিশেষ করে দরিদ্র,নিন্মবিত্ত, নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারের গর্ভবতি মা ও তাদের নবজাতকের জন্য চিকিৎসাসেবা গ্রহনের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানে পরিনত হয়েছিল এ কেন্দ্রটি। কিন্তু এ কেন্দ্রের এনেসথাসিয়া ডাক্তার হংসপতি সিকদার (এইচ.পি সিকদার) বদলি হওয়ার পর থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সিজারিয়ান অপারেশন। শহরে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশনসহ অন্যান্য সেবা ক্ষেত্রে বানিজ্যিক বিষয়টি বেশি প্রধান্য থাকে কর্তৃপক্ষের কাছে। এর ফলে জেলার এ মাতৃসদনটির সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া আর্থিকভাবে অসচ্ছল মায়েদের দূর্ভোগ চরমে পৌছেছে। গত মাসে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের এনেসথাসিয়া ডাক্তার হংসপতি সিকদারকে প্রশাসনিক কারনে শাস্তিমূলক বদলি করা করার পর থেকেই বন্ধ রয়েছে অপারেশন। এখন পর্যন্ত এ কেন্দ্র নতুন কোন এনেসথাসিয়া ডাক্তার যোগ না দেবার কারনে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে পিরোজপুর সদর ও ছয় উপজেলার নারীরা। এছাড়া সীমান্তবর্তী পাশর্^বতী বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলাসহ কযেকটি উপজেলার বাসিন্দারা এ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসতো।
পিরোজপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে গত কয়েক বছর ধরে ঘটছে নানা প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনা। এ সব ঘটনার জের ধরে একাধিকবার বন্ধ হয়েছে সিজারিয়ান অপারেশন। বিঘিœন হয়েছে অন্যান্য সেবাও। সব মিলিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বার বার ঘটনা যাই হোক বন্ধ হয় সিজারিয়ান অপারেশন। কোন মহলের স্বার্থে তাদের সৃষ্টি পিরোজপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের জটিলতা । এমন প্রশ্ন শহরে অনেকটাই ওপেন সিক্রেট। প্রশ্ন ওপেন সিক্রেট , কিন্তু উত্তর টপ সিক্রেট। মাত ৃসদনটিতে সিজারিয়ান অপারেশন সেবাটি বন্ধ হলে লাভবান যে মহলটি, তারা প্রভাবশালী হবার কারনে এ নিয়ে সবাই অনেকটাই নীরব। বর্তমানে যে কারনে সেবা বন্ধ সে ঘটনাটি গত মাসের। একটি সিজারিয়ান অপারেশন করা নিয়ে এনেসথাসিয়া ডাক্তার হংসপতি সিকদারের সাথে রোগীর স্বজনদের বিরোধ হয়। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন হংসপতি সিকদার রোগীকে ওটি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তাদের সাথে র্দূব্যবহার করেছে।এ ঘটনায় ডাক্তারের দাবি ছিল তিনি রোগীকে অপারেশনের আগে বি.টি,সি.টি নামক পরীক্ষা করিয়ে নিতে বলেছিলেন, যা রোগীর স্বার্থ সংলিষ্ট। একাধিকবার বলার পরেও রোগীর স্বজনরা পরীক্ষাটি না করিয়েই অপারেশন করাতে চেয়েছিল। পরীক্ষার রিপোর্ট না দেখে তিনি রোগীর শরীরে চেতনানাশক প্রয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয় এক স্বজন। এক পর্যায় তার সাথে কথাকাটা হলে স্বজনরা তাদের উদ্দ্যোগে রোগীকে নিয়ে নাজিরপুর উপজেলায় নিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করান। রোগীর যে স্বজনের সাথে এ ঘটনা তিনিও পিরোজপুর মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে কর্মরত। এছাড়া ওই রোগীর আরোও স্বজন আছে একই প্রতিষ্টানে।এ ঘটনার পরে তাদের দেয়া লিখিত অভিযোগের কারনেই এনেসথাসিয়া ডাক্তার হংসপতি সিকদারকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে ২০১৬ সালে এ প্রতিষ্ঠানের আরেক দফা বন্ধ ছিল সিজারিয়ান অপারেশন। সে সময়ের ঘটনাটি ছিল আরো প্রশ্নবিদ্ধ। তখন মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের আবাসিক ডাক্তার সাহেলা পারভিনের বাসায় চুরির অভিযোগে ওঠে। কেন্দ্রের মধ্যে অবস্থিত বাসায় চুরির অভিযোগ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের ৬ জনের বিরুদ্ধে নিজে বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন সাহেলা পারভিন। সে মামলায় প্রধান আসামী করা হয় ডাক্তার হংসপতি সিকদারকে। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সহকর্মী ডাক্তারকে সহ অন্যদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ ও মামলার বিষয়টি সে সময় বেশ আলোচিত হয়েছিল। মামলার এ ঘটনার পরে বন্ধ ছিল অপারেশন। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরিন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে নামে বেনামে নানা অভিযোগ প্রেরন ও সে বিষয়ে তদন্ত চলার ঘটনাতো ছিলই।
মা ও শিশু কেন্দ্রের এক কর্মচারি নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, একটি মহল যড়যন্ত্রের মাধ্যমে এখানের ডাক্তারকে সরিয়েছে। তারা রোগী ভাগিয়ে নিতে বার বার চেষ্টা করে অপারেশন বন্ধ রাখতে।
পিরোজপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাম কৃষ্ণ দাস জানান, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে সিজারিয়ান অপারেশন বাদে মায়েদের অন্যসেবা চালু আছে। এনেসথাসিয়া ডাক্তার বদলি ও নতুন না যোগ দেবার কারনে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। একাধিকবার এখানে জটিলতা বা এবার ডাক্তারকে শাস্তিমূলক বদলির বিষয়ে বলেন , সব তদন্তকরে দেখে হচ্ছে।

print