স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলছে আট বছর ধরে । তবে তা শুধু খাতা-কলমে। বাস্তবে নেই তার কোন কার্যক্রম। টাকায় বিনিময়ে বিক্রি হচ্ছে কাফিয়া জামাত উত্তির্ণ হতে ¯œাতক পাশের সনদও। দীর্ঘদিন যাবত এ অনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে পিরোজপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দারুল উলুম খাদেমুল ইসলাম বাদুরা কওমী মাদ্রাসার নায়েবে মুহ্তামিম মাও: জাকির হুসাইন সিকদার। এছাড়া স্থানীয় এক ক্ষমতাশীল দলের নেতার ছত্রছায়ায় থাকা এ শিক্ষক ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র এনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ইমামদের কাছ থেকে বিপুল পরিমানে অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ আছে ।
আর এই সকল অভিযোগ করছেন মাদ্রাসার অন্য শিক্ষক ও ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে গিয়েও পাওয়া গেছে অভিযোগের সত্যতা । জানাযায়, পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭ নং শংকরপাশা ইউনিয়নের বাদুরা গ্রামে ১৯৭২ সালে দারুল উলুম খাদেমুল ইসলাম বাদুরা কওমী মাদ্রাসা স্থাপিত হয়। তবে এই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার কার্যক্রমে চলছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। আর এই অনিয়ম ও দুর্নীতির পিছনে প্রধান অভিযুক্ত হচ্ছে মাদ্রসার নায়েবে মুহ্তামিম মাও: জাকির হুসাইন সিকদার। তার বিরুদ্ধে মাদ্রাসার মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক একটি শিক্ষা কেন্দ্র ২০১০ সালের জানুয়ারী মাস থেকে পরিচালনার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
২০১৭ সালের শিক্ষা বর্ষেও ইসলামি ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে এই কেন্দ্রে ১২ জন ছাত্র ও ১৮ জন ছাত্রী মোট ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা। তবে সরজমিনে গিয়ে কোন শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এছাড়া আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে, মাদ্রাসার মুহ্তামিম আলহাজ্ব মাওলানা মুহা: আলী আকবর দীর্ঘদিন যাবত শারিরীক অসুস্থতার কারণে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকার সুযোগে জাকির হুসাইন সিকদার টাকার বিনিময়ে মাদ্রাসার নামে বিভিন্ন জনের কাছে কাফিয়া জামাত উর্ত্তিণ সনদ বিক্রি ও মাদ্রাসার শিক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন ডিগ্রি পাশের জাল সনদও বিক্রি করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র এনে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ইমামদের কাছ থেকে বিপুল পরিমানে অর্থ নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ আছে এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
মাদ্রাসার অন্য শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, মাও: জাকির হুসাইন সিকদার নিজ নামে এই মাদ্রাসার মসজিদে একটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মসজিদ ভিত্তিক একটি শিক্ষা কেন্দ্র চালান। তবে কেন্দ্রে কোন শিক্ষার্থী নাই। শুধু মাত্র খাতা-কলমে শিক্ষার্থী ও কেন্দ্র পরিচালনা দেখিয়ে এই ৮ বছরে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছে। মাদ্রাসা থেকে বিক্রি করেছে জাল সনদ পত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, মাদ্রসার নায়েবে মুহ্তামিম মাদ্রাসাটিকে তার নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। মাদ্রসার বিভিন্ন কক্ষ দখল করে রাখছেন তিনি। পালন করেছে গাবাদী পুশু। মূলবান কিতাহ সমূহ নিজের কাছে আটকে রাখছে। সর্ব শেষ মাদ্রসার ভিতরে দুইটি ভবনে তার নিজ নামে এনেছে বিদ্যুৎ সংযোগ।
মাদ্রাসার মুহ্তামিম আলহাজ্ব মাওলানা মুহা: আলী আকবর এ বিষয়ে জানান, তার মাদ্রাসায় মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্র বা কার্যক্রম আছে তা তার জানা নাই। আর মাও: জাকির হুসাইন সিকদারের নামে জাল সনদ বিক্রি সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের অভিযোগ করেছে অনেকে তার কাছে।
অভিযোগের বিষয়ে নায়েবে মুহ্তামিম মাও: জাকির হুসাইন সিকদার জানান, তার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। তবে মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রমের বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি জানান মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বিষয়টি জানেন আর এ বিষয়ে কোন কথা বলতে তিনি নিষেধ করছে।
পিরোজপুর ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক (চ:দা:) মো: আব্দুল মতিন হাওলাদার জানান, মসজিদ ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রমের বিষয়ে তারা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিবেন।

print