হাসিবুল ইসলাম হাসান:
১৯৮৭ সালে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের আন্দোলনের কর্মসূচির মিছিলে অংশগ্রহণকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হন যুবলীগ নেতা নূর হোসেন। সাহসী নূর হোসেনের উদাম গায়ে লিখেছিল ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক- স্বৈরাচার নিপাত যাক’। তার এই আত্মত্যাগ তৎকালীন স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকামী মানুষের আন্দোলনকে আরো বেগবান করে। আর সেই শহীদ নূর হোসেনের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে।
আর সেই মঠবাড়িয়া উপজেলায় প্রথম আসছেন সেই সময়ের স্বৈরশাসক বর্তমানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
মঠবাড়িয়া উপজেলা জাতীয় পার্টি ও তার অংগ সংগঠনের আয়োজনে এ জনসভায় যোগ দিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মঠবাড়িয়া আসছেন তিনি।
সভায় প্রধান বক্তবা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মঠবাড়িয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ডা: রুস্তুম আলী ফরাজী।
এদিকে মঠবাড়িয়ায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আগমনের সংবাদে প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শহীদ নূর হোসেন স্মৃতি পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয়রা ।
শহীদ নূর হোসেন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি নূরুল আমিন রাসেল জানান, শহীদ নূর হোসেনের জন্ম মাটিতে তার খুনি এরশাদের আগমনে তারা সহ স্থানীয়া ক্ষুব্দ। এরশাদের জনসভায় যাতে স্থানীয় লোকজন অংশ গ্রহন না করে সে জন্য বিভিন্ন প্রচারনা লিফলেট, পোষ্টার লাগানোসহ এলাকায় এলাকায় সভা করা হয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারনা চালানো হচ্ছে এই সমাবেশের বিরুদ্ধে।
নূরুল আমিন রাসেল আরো জানান, আজ সকাল থেকেই মঠবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এরশাদের আগমনের প্রতিবাদ স্বরুপ কালো পতাকা মিছিল করার আয়োজনও করেছে তারা।
স্থানীয় দোকানদার সেলিম সরদার জানান, এরশাদের আগমনকে সামনে রেখে এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। এতে করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিছে।
এদিকে মঠবাড়িয়া থানার ওসি কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আগম উপলক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

print