হাসিবুল হাসান : পিরোজপুরে শহরের মধ্যরাস্তা এলাকায় অবস্থিত প্রতিভা কোচিং সেন্টার যা সেখানে পড়–য়া শিক্ষার্থীরা বলে থাকে বাচ্চু স্যারের কোচিং সেন্টার। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সেই কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা গেলো কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছে এক এক জন শিক্ষক। কোচিং সেন্টারের বাচ্চু স্যারের সাথে জানতে চাওয়া হলে সে জানায় এখানে বর্তমানে ৮ম, ৭ম ও ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ক্লাস চলছে। যার বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ছিল স্কুল ড্রেস পড়িহিত। একই সড়কে অবিস্থিত বিসমিল্লাহ কোচিং সেন্টার সেখানে একই সময়ে গিয়ে দেখা যায় ৫ম শ্রেণী ও ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ক্লাস চলছে। শহরের পশ্চিম শিকারপুর এলাকার কৃষি ব্যাংকের পিছনে একটি ভবনে সততা কোচিং সেন্টারে সকাল ১১ টায় গিয়ে দেখা যায় সেখানে ৮ম ও ১০ শ্রেণরি কোচিং চলছে। শহরের বসন্ত পুল এলাকায় অবস্থিত ট্রাষ্ট কোচিং সেন্টার সেখানে গিয়ে দেখা যায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীর কোচিং ক্লাস চলছে, শহরের উকিল পাড়ায় অবিস্থিত শিরোনাম প্রাইভেট টিচিং হোম সেখানে গিয়ে দেখা যায় ৪র্থ,৫ম ও ৭ম শ্রেণীর কোচিং ক্লাস চলছে, শহরের কালিবাড়ী সড়কে অবস্থিত কেপি কোচিং সেন্টারে গিয়ে দেখা যায় সেখানে ৪র্থ, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কোচিং ক্লাস চলছে। এছাড়া শহেরর বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে চলে শিক্ষার্থীদের কোচিং ক্লাস। আর কোচিং সেন্টারে গিয়ে বেশির ভাগ আর এই সকল কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে কোচিং সেন্টার কর্র্তৃপক্ষ চালাচ্ছে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারনা।
তবে কোচিং বাণিজ্যে বন্ধ নীতিমালা অনুযায়ী নিয়ম হচ্ছে কোন কোচিং সেন্টার বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে কোন কোচিং ক্লাস করাতে পারবে না। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো মাধ্যমে বেশি মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে কোচিং সেন্টার কর্তৃক কোন পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন করতে পারবে না। কিন্তু পিরোজপুরের কোচিং সেন্টার গুলো এর কোন নীতিমালাই মেনে তাদের কোচিং সেন্টার চালাচ্ছে না। বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে নিচ্ছে তারা কোচিং ক্লাস। আর শহরের প্রায় সকল স্থানেই চোখ ঘুরালেই দেখা যায় কোচিং সেন্টারে নানা আকর্ষনীয় পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন ও ব্যানার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, কোচিং সেন্টারের কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা বিদ্যালয়ে কম উপস্থিত হচ্ছে। কারণ কোচিং সেন্টারে পড়া-লেখার সময় তারা অনেক স্বাধীনতা বেশি পেয়ে থাকে আর কোচিং ক্লাসে শিক্ষার্থীদের তেমন কোন জবাবদিহিতা নেআ তিাই তার বাড়ি থেকে বেড় হয়ে বিভিন্ন সময় বিদ্যালয়ে না এসে কোচিং ক্লাসেই সময় দিয়ে থাকে। যাতে করে শিক্ষার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে।
তবে কোচিং সেন্টারের কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ে সকালের সিফট ও দুুপুরের সিফট হওয়ার কারনে তার সময় ভাগ করেই এই কোচিং ক্লাস গুলো করে থাকে।
তবে পিরোজপুরের সাধারণ জনগণের দাবী শিক্ষার গুনগত মান ফিরিয়ে আনার জন্য বিদ্যালয়ের দিকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে হবে এবং কোচিং সেন্টার গুলোকে নীতিমালার মধ্যদিয়ে পরিচালিত করতে হবে।

print