হাসিবুল হাসান : পিরোজপুর জেলার শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত পিরোজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। জেলার ঐতিহ্যবাহী ও একসময়ে শিক্ষার গুনগত মানে এগিয়ে থাকা এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা যাচ্ছেতাই। অতিরিক্ত ক্লাসের নামে পাইকারী কোচিং বানিজ্যের কারনে দিন দিন এ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার গুনগত মান ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ অভিভাবকদের । সরেজমিনে জানাযায়,এ বিদ্যালয়ে ৩য় শ্রেণী থেকে ১০ শ্রেণী পর্যন্ত এ বছর মোট ১ হাজার ৭ শত ৪০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। দুই শিফটে পরিচালিত এ বিদ্যালয়ে বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায় সেখানে বিভিন্ন কক্ষে চলছে অন্য শিফটের শিক্ষাথীদের অতিরিক্ত ক্লাস। প্রতিটি ক্লাসে রয়েছে ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থী যা নীতিমালা বিরোধী। আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায় বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাস নেয়ার কোন প্রকার নীতিমালাই মানা হচ্ছে না । যা হচ্ছে তা পাইকারী হারে কোচিং ছাড়া আর কিছুই না। নীতিমালায় অবিভাবকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলা হয়েছে,তবে বিদ্যালয়লটিতে বর্তমানে চলা অতিরিক্ত ক্লাসকে কোচিং বানিজ্য ছাড়া কিছু বলতে রাজি নয় সেই অভিবাকরাই। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীলিপ কুমার মৃধা এ বিদ্যালয়ের কোন শ্রেণীর কত সংখ্যক শিক্ষর্থী অতিরিক্ত ক্লাস করে তার নির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে বন্ধ নীতিমালা-২০১২ অনুযায়ী জেলা পর্যায়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছে অতিরিক্ত ক্লাস বাবদ প্রতিটি বিষয়ে ২০০ টাকা ফি দেয়ার কথা এবং তা বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক কর্তৃক একটি রশিদের মাধ্যেমে এটা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোন রশিদের মাধ্যেমে ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করে না। প্রতিটি অতিরিক্ত ক্লাসে এক সাথে ৪০ জনের বেশী শিক্ষার্থী এক সাথে এ ক্লাস করারর কথা বলা হলেও বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় প্রতিটি অতিরিক্ত ক্লাসে গড়ে ৫০-৭০জন ছাত্রী এক সাথে অতিরিক্ত ক্লাস করছে এক সাথে। নীতিমালা অনুসারে বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাসের ফি বাবদ যে টাকা শিক্ষার্থী দিবে তার ১০% বিদ্যালয়ের কোষাগাড়ে জমা দিতে হবে। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ টাকার বিষয়ে জানান, বিদ্যালয়ের আগের প্রধান শিক্ষক এই টাকার বিষয়ে কোন কিছুই তাকে বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি আর তার কাছেও এই বিষয়ে কোন তথ্য নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, এ বিদ্যালয়ে গড়ে প্রায় ১ হাজার ছাত্রী অতিরিক্ত ক্লাস করে। যেখানে ছাত্রীরা গড়ে প্রতিমাসে কমপক্ষে ৫০০ টাকা দিয়ে থাকে। যদি ১ হাজার ছাত্রী মাসে ফি বাবদ ৫০০ টাকা করে দেয় তাহলে প্রতিমাসে শিক্ষকরা পায় ৫ লক্ষ টাকা। আর এর ১০% এ হয় ৫০ হাজার টাকা। যা বছরে গিয়ে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ টাকা। যা বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের মদদে অত্মসাৎ করা হয়ে থাকে। এছাড়া রশিদ বাদে অতিরিক্ত ক্লাসের ফি আদায় করার কারণে অনেক সময় শিক্ষকরা নীতিমালার নিধারিত ফি এর চেয়ে বেশি ফি নিয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাস করা কয়েকজন ছাত্রীর অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত ক্লাস করার চেয়ে বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত ক্লাস করাতে বেশি আগ্রহ করে থাকে। কারণ বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস করুক আর না করুক বেতন তো আর কাটা যাবে না। কিন্তু ছাত্রীদের অতিরিক্ত ক্লাস করালে তারা বেশি ফিস নিতে পারবে। বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক এ প্রতিবেদকের কাছে বিদ্যালয়ে অনিয়ম বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।

print