বাণিজ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও ১০০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়টি বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগেও চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।

গত মাসের প্রথমদিকে বিদেশ থেকে আমদানি করা স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্কের হার বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার প্রতিক্রিয়ায় ১২৮টি মার্কিন পণ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কথা ঘোষণা করে বেইজিং।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সোয়াবিন কিংবা বিমানের যন্ত্রাংশের মতো পণ্যের উপর প্রায় ৫০ হাজার কোটি ডলার বাড়তি শুল্ক চাপানোর নেয়া হয়।

জবাবে মার্কিন প্রশাসনও চীনের পণ্যের উপর বাড়তি ১০ হাজার কোটি ডলার বাড়তি শুল্ক আরোপ করছে। এখনও বিষয়টি চূড়ান্ত হয়নি ঠিকই। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত সপ্তাহে মেধাস্বত্ব লংঘনের শাস্তি হিসেবে ১৩০০ চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নতুন পরিকল্পনার কথা জানায় ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানায়, মেধাস্বত্ব অধিকার বিষয়ে চীনের অন্যায্য চর্চার কারণেই আমদানি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের প্রস্তাব আনা হয়েছে।

এ পরিকল্পনাকে গত বছর চীনের মেধাস্বত্ব চর্চা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের তদন্তের নির্দেশের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। চীন তার দেশে বিনিয়োগ করতে যাওয়া মার্কিন কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি ভাগাভাগিতে চাপ দিচ্ছে। একটি তদন্তে এ ধরনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে গত মাসেই ট্রাম্প বেইজিংয়ের যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা যায় তার তালিকা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

শুল্ক চাপিয়ে যেভাবে চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে অন্যের পণ্য আটকাতে চাইছে, তাতে উদ্বিগ্ন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। বলা হচ্ছে, সংঘাত না বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমেই ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং শি জিনপিংয়ের এই সমস্যা মিটিয়ে ফেলা উচিত। কিন্তু সুর নরম করার ইঙ্গিত নেই কোনও পক্ষেরই।

print