ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারপতি। শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যেই আতসমর্পন করতে বলা হয়েছে দেশটির এক সময়ের জনপ্রিয় এই সাবেক প্রেসিডেন্টকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেডারেল বিচারপতি সেরজিও মোরো লুলাকে বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করা পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার না করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন লুলা। বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্ট তার সেই আবেদন খারিজ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শুক্রবার বিকাল ৫টার আগেই ৭২ বছর বয়সী লুলাকে কুরিতিবা শহরে ফেডারেল পুলিশ সদর দফতরে আত্মসমর্পণ করতে হবে। মোরো জানান, লুলার জন্য আগে থেকেই একটি বিশেষ সেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দুর্নীতি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ১২ বছরের কারাদণ্ড হয় তার।

লুলার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আগামী অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি যেন তিনি অংশ নিতে না পারেন সেজন্যই এমন পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব জরিপ হয়েছে সেগুলো অনুযায়ী তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী। আর সে কারণেই তার বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন লুলা।

আপিলের সময় তিনি যেন কারাগারের বাইরে থাকতে পারেন সেজন্য তার আইনজীবীরা আবেদন জানান। কিন্তু পাঁচ-ছয়টি সেশনে লুলার মামলা নিয়ে আইনজীবিদের বৈঠকের পর তা খারিজ করে দেয়া হয়। লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্যরা বলছেন, লুলার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্ত ব্রাজিল এবং দেশটির গণতন্ত্রের জন্য একটি দুঃখজনক দিন।

ফেডারেল বিচারপতি সেরজিও মোরো এক বিবৃতিতে বলেন তিনি লুলাকে আত্মসমর্পনের জন্য সুযোগ দিয়েছেন কারণ তিনি দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং লুলার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করায় অনেক ব্রাজিলিয়ানের কাছেই মোরো এখন একজন সুপারস্টার। তবে অপরদিকে অনেকের কাছেই তিনি বামপন্থী নেতাকে ধ্বংস করার জন্য চালানো মিশনের অন্যতম ব্যক্তি।

লুলাকে কারাগারে পাঠাতে সুপ্রিমকোর্টের আদেশের পরপরই রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন তার সমর্থকরা। লুলার নিজের শহর সাও বার্নারদো দো ক্যাম্পোতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ২ হাজার সমর্থক। তারা লুলাকে গ্রেফতার না করার দাবি জানান।

print