বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির উদ্যোগে শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে চলছে সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল। সকাল থেকেই ক্ষুদে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিজ্ঞানপ্রেমীদের ফেস্টিভ্যালে উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সবাই বিভিন্ন স্টলে স্টলে ঘুরছেন, উপভোগ করছেন ফেস্টিভ্যালের নানা আয়োজন।

বিজ্ঞানপ্রেমী ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য এবারের ফেস্টিভ্যালে প্রথম বারের মতো রয়েছে রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত কার রেসিং। এছাড়া রয়েছে সিমুলিটিং গেম, মাস্টার টাইপার প্রতিযোগিতা, ২৫ শতাংশ হ্রাস মূল্যে বই ক্রয়ের সুবিধা, রিমোট কন্ট্রোল মোটর রেসিং, সাইন্স ফিকশন মুভি দেখার সুযোগ, বিজ্ঞান কুইজ, বিজ্ঞান আনন্দ স্টল, হানচা আড্ডা, থ্রিডি-টুডি চরিত্রের সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ, এলিয়েন উৎসব, লেজার শোসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞানপ্রেমী, ক্ষুদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে ফেস্টিভ্যালে। বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির আয়োজনে এই ফেস্টিভ্যালে প্রতিটিই স্টল, বিনোদনমূলক প্রতিটি কার্যক্রমে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। ফেস্টিভ্যালে ঘুরে চোখে পড়লো একটি স্টলে উপচেপড়া ভিড়। এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল, এই স্টলে রয়েছে একটি রোবট। রোবটটি মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারে। নাম তার রিবো। হিউম্যান রোবট রিবো-২০১৮, এটা রিবোর তৃতীয় ভার্সন। শুধু তাই নয়, রোবটটি মানুষের সঙ্গে হ্যান্ডসেকও করতে পারে। রোবটটিকে ঘিরে শিশুসহ আগত সকলের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। অনেকেই রোবটটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, হ্যান্ডসেক করে কথাও বলে নিচ্ছেন।

রোবটটির স্টলকে ঘিরে উৎসুক মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি। ভিড় ঠেলে রোবট রিবোর সঙ্গে কথা বলতে এসেছে ৫ বছর বয়সী আনান রহমান। মিরপুর থেকে বাবার সঙ্গে এই ফেস্টিভ্যালে এসেছে সে। সবে পড়ালেখা শুরু করেছে এই আনান। মিরপুরে একটি ইংরেজি মাধ্যম কিন্ডারগার্টেনে পড়ে সে। আনান রহমান হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে রোবটিকে প্রশ্ন করে- তোমার নাম কি? কোনো দেরি না করে তাৎক্ষণিক রোবটটি উত্তর দিল তার নাম রিবো। এবার আনান রহমানের ২য় প্রশ্ন- তোমার দেশের নাম কি? রোবটটির উত্তর ছিল- আমার দেশের নাম বাংলাদেশ। এবার আনানের শেষ প্রশ্ন তুমি কি খেতে পছন্দ কর? তাৎক্ষণিক রোবট রিবো উত্তর দিল- আমি মি. নুডলস খেতে পছন্দ করি। প্রতিটি প্রশ্নেই রোবটটির এমন তাৎক্ষণিক উত্তর শুনে উপস্থিত সবাই রীতিমতো তাক লেগে যান, আগ্রহ থেকেই উপস্থিত সবাই একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন রোবট রিবোকে।

ভার্সন-৩ এর রোবট রিবো তৈরি করেছে ৭ জন ক্ষুদে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী। রোবটটি নিয়ে কথা হয় রোবট রিবো তৈরির দলের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সাইন্স ফিকশন সোসাইটির ক্রিয়েটিভ সদস্য কাউসার ফারাজী মাহিনের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ৭ জন ক্ষুদে বিজ্ঞানী এই রোবট রিবোর ৩য় ভার্সন তৈরি করেছে, এদের মধ্যে আছে শাহদাত আলম (দল নেতা), বদিউজ্জামান জীবন, আব্দুল মুহাইমিন, মাজহারুল ইসলাম সিফাত, নাজমুল আলম, তৌহিদুল ইসলাম আকাশ, মামুন ফারাজী। মূলত এই কয়েকজন মিলে রোবটটি তৈরি করেছেন। কী কী করতে পারে এই রোবট- এমন প্রশ্নের জবাবে কাউসার ফারাজী মাহিন বলেন, রোবটটি কথা বলতে পারে অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম রোবটটি। এখানেই শেষ নয়, রোবটটি আই কন্ট্রাক্ট করতে পারে, হ্যান্ডসেক করতে পারে। ঘাড়-চোখ নাড়ানো, স্বরবর্ণ বলতে পারে। ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুণতে পারাসহ কথা বলার সময় মুখ নাড়ানো এমনকি নাচতেও পারে রোবটটি।

চতুর্থ বারের মতো আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সাইন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত বিনামূল্যে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকছে। মিস্টার নুডলস সায়েন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যাল ২০১৮ বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির আয়োজনে এ ফেস্টিভ্যাল তৃতীয়বারের মতো পৃষ্ঠপোষকতা করছে ‘মি. নুডলস’। এবারের এই বিজ্ঞান উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ মানুষের মতো দেখতে রোবট ‘রিবো’। অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে রয়েছে এলিয়েন উৎসব, সিমিউলেশন ভিডিও গেইম প্রতিযোগিতা, মাস্টার টাইপার প্রতিযোগিতা। এছাড়া শনিবার থাকবে সায়েন্স ফিকশন ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল।

Robot-4

রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে শিশু সন্তান মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে সাইন্স ফিকশন ফেস্টিভ্যালে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী ফারজানা খান। তিনি বলেন, নানা বিনোদনের মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানপ্রেমী করে তুলতে এই ফেস্টিভ্যাল আসলেই খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যেসব আয়োজন করা হয়েছে তাতে অবশ্যই শিশুরা বিনোদনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। বিশেষ করে রোবট রিবোর সঙ্গে কথা বলতে আমার সন্তান ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে বারবার রোবটির দিকে ছুটে যাচ্ছে। এতে তার বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। সে কারণেই সন্তানকে নিয়ে ফেস্টিভ্যালে এসেছি। শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় এমন একটি ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করার জন্য বাংলাদেশ সাইন্স ফিকশন সোসাইটি এবং আয়োজনটির পৃষ্টপোষক মি. নুডলসকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

বাংলাদেশ সায়েন্স ফিকশন সোসাইটির সভাপতি মোশতাক আহমেদ বলেন, বিনোদনের সাহায্যে বিজ্ঞানকে শিশুদের কাছে সহজ ও আগ্রহী করে তুলতে সায়েন্স ফিকশন সোসাইটি একটি প্লাটফর্ম তৈরি করতে চেষ্টা করছে। এছাড়া আমরা বিভিন্ন রকমের কাজ করছি। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আশা করছি, আমরা সাইন্স ফিকশন মুভিও তৈরি করতে পারব। এ বিষয়ে প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক শেখ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘বিজ্ঞান চর্চাকে উৎসাহিত করা ও বিজ্ঞানের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বাড়াতে এ ফেস্টিভ্যাল আয়োজন করা হয়েছে। খুদে বিজ্ঞানীদের উৎসাহ প্রদান এবং সায়েন্স ফিকশন রাইটারদের জন্যও এটি চমৎকার একটি প্লাটফর্ম।

print