বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটালাইট মহাকাশে সফল ভাবে উৎক্ষেপণ উদ্যাপন উপলক্ষে আজ পিরোজপুর স্টেডিয়ামে এক আতসবাজি ফুটানোর আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক আবু আহমেদ ছিদ্দীকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক কাজী মো: তোফায়েল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এস এম সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিএম আবুল কালাম আজাদ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. এম এ হাকিম হাওলাদার, জেলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিসদের সদস্য সচিব এ্যাড. এম এ মান্নান, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, জেলা তথ্য অফিসার মো: মহাসীন হোসেন তালুকদার, পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বর্তমান সভাপতি শফিউল হক মিঠু, পৌর কাউন্সিলর সাদউল্লাহ লিটন সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্তরের বিপুল পরিমানে দর্শক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিটে স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হয় মহাকাশের পথে। মোটামুটি আধা ঘণ্টার মাথায় বঙ্গবন্ধু-১ পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে।স্পেসএক্সের লাইভ ওয়েবকাস্টের মধ্যেই ধারণ করা এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। প্রবেশ করলাম নতুন যুগে।”বাংলাদেশের এই স্বপ্নযাত্রা শুরু হল কেনেডি স্পেস সেন্টারের সেই ‘৩৯-এ’ লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে, যেখান থেকে ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অ্যাপোলো-১১’ মহাকাশযানটি মানুষকে পৌঁছে দিয়েছিল চাঁদে।বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। বাংলাদেশ সরকারের একটি মনোগ্রামও সেখানে রয়েছে।বাংলাদেশ এতদিন বিদেশি স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল; বর্তমানে বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বাংলাদেশকে গুণতে হয় বছরে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১১৮ কোটি টাকা)।অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাই ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিজস্ব যোগাযোগ স্যাটেলাইট কাজ শুরু করার পর বাংলাদেশ ভাড়া স্যাটেলাইটের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকার আশা করছে।মানুষের মহাকাশযাত্রার ইতিহাসে এই উৎক্ষেপণ চিহ্নিত হয়ে থাকবে পুনঃব্যবহারযোগ্য ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণের প্রথম সফল উৎক্ষেপণ হিসেবেও। ব্লক ফাইভের এই সফল যাত্রার ওপর ভর করেই মঙ্গল অভিযানের স্বপ্ন দেখছে স্পেসএক্স।

print