আর মাত্র ২৫ দিন পর রাশিয়ায় দামামা বেজে উঠবে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ-২০১৮। এবার ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপের ২১তম আসর বসছে রাশিয়ার ১১টি শহরের ১২টি দৃষ্টিনন্দন স্টেডিয়ামে মাসব্যাপী হবে বিশ্বের ৩২টি ফুটবল দলের যুদ্ধ। বৈশ্বিক মঞ্চ মানেই পুরনো রেকর্ড ভাঙা, নতুনভাবে রেকর্ড গড়া। তাই বিশ্বকাপের ২১তম আসরে নতুন রের্কড যোগ হওয়ার আগে পুরনো রেকর্ডগুলো একবার দেখা নেয়া যাক-

বিশ্বকাপজয়ী দেশ
এখন পর্যন্ত ব্রাজিল ৫ বার, জার্মানি ৪ বার, ইতালি ৪ বার, আর্জেন্টিনা ২ বার, উরুগুয়ে ২ বার, ইংল্যান্ড ১ বার, ফ্রান্স ১ বার ও স্পেন ১ বার বিশ্বকাপ জিতেছে।

সর্বোচ্চ বিশ্বকাপজয়ী দল
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ টুর্নামেন্ট বিশ্বকাপের স্বপ্নের সোনার ট্রফিটা ৫ বার শোকেসে ভরেছে ব্রাজিল (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে)। যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইতালি ও জার্মানি। স্বপ্নের ট্রফিটা ৪ বার করে বগলদাবা করেছে ইতালি (১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২, ২০০৬) ও জার্মানি (১৯৫৪, ১৯৭৮, ১৯৯০ ও ২০১৪)।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলার
ফুটবল ইতিহাসে ৫টি বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি আছেই মাত্র দুজনের- মেক্সিকোর আন্তোনিও কারবাহালের এবং জার্মানির লোথার ম্যাথিউসের। এবার মাঠে নামলে সেই বিরল তালিকায় নাম লেখাবেন ৩৯ বছর বয়সী মেক্সিকান মিডফিল্ডার রাফায়েল মার্কেজ।

দ্রুততম গোল
দ্রুততম গোল তুরস্কের হাকান সুকুরের। ২০০২ বিশ্বকাপে এ কীর্তি গড়েন তিনি। খেলার মাত্র ১০.৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে এ ইতিহাস রচনা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এ রেকর্ডের দেখা পান সুকুর। ওই ম্যাচে তুরস্ক জেতে ৩-১ গোলে৷ রাজনৈতিক কারণে তুরস্ক সরকারের রোষানলে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন এ রেকর্ডধারী।

বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল
একটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোল করেছেন ফ্রান্সের জাঁ ফন্টেইন। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে, সর্বসাকল্যে ১৩ বার নিশানাভেদ করেন তিনি।

একাধিক বিশ্বকাপ মিলিয়ে সর্বোচ্চ গোল জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার। ২৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন এ সেন্টার ফরোয়ার্ড। ১৬টি গোল করে তিনিই আছেন বিশ্বকাপে সর্বাধিক গোল করার তালিকার শীর্ষে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম কিংবদন্তি রোনাল্ডো বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন ১৯টি। ১৫টি গোল রয়েছে তার অর্জনের খাতায়।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে তরুণ খেলোয়াড়
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কণিষ্ঠ খেলোয়াড় উত্তর আয়ারল্যান্ডের নর্মান হোয়াইটসাইড। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে খেলেন তিনি। তার বয়স ছিল তখন ১৭ বছর ১ মাস ১০ দিন৷

বিশ্বকাপে প্রবীণতম খেলোয়াড়
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রজার মিলা। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেন তিনি। তখন তার বয়স ছিল ৪২ বছর ১ মাস ৮ দিন।

সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ খেলা দল
সবথেকে বেশি বিশ্বকাপ খেলা দল স্বভাবতই ব্রাজিল (২০ বার)! সেলেকাওরাই একমাত্র দল যারা ১৯৩০ থেকে অদ্যাবধি কোনো বিশ্বকাপেই অনুপস্থিত থাকেনি। ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়নি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে।

সর্বোচ্চ ফাইনাল খেলা দল
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ফাইনাল খেলা দল যৌথভাবে ব্রাজিল ও জার্মানি। দু’দলই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে ৭ বার করে লড়াই করেছে।

সবচেয়ে বেশি টানা শিরোপা
ইতালি ও ব্রাজিলের টানা দুবার শিরোপা জয়ের কীর্তি আছে। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ফুটবলের বৈশ্বিক আসরের শিরোপা ঘরে তোলে আজ্জুরিরা। আর ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি ছিনিয়ে নেয় সাম্বার দেশ ব্রাজিল।

এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল
১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়া-ক্যামেরুন ম্যাচে এ কীর্তি গড়েন ওলেগ সালেঙ্কোর। এই ম্যাচে তিনি একই ঠিকানায় বল পাঠান ৫ বার।

সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে কণিষ্ঠ গোলদাতা ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে। ১৭ বছর ২৩৯ দিনে বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলেন ফুটবলের রাজা। যদিও ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে ও আর্জেন্টিনা কিংবদন্তি ম্যারাডোনার মধ্যে কে ফুটবলের রাজা তা নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি গোলের ম্যাচ
অস্ট্রিয়া বনাম সুইজারল্যান্ড (৭-৫)। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে এ গোলবন্যা দেখেন ফুটবলপ্রেমীরা।

সর্বোচ্চ সময় গোল না খাওয়া গোলরক্ষক
বিশ্ব ফুটবলে বরাবরই বিখ্যাত সব গোলরক্ষকের চারণ ভূমি ইতালি। ওয়াল্টার জেঙ্গা তার মধ্যে অন্যতম। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ৫১৭ মিনিট ধরে কোনো গোল হজম করেননি তিনি।

সর্বোচ্চ বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড়
এ রেকর্ডটির মালিক একমাত্র পেলে। সর্বোচ্চ ৩ বার শিরোপা ছুঁয়ে দেখার রেকর্ড আছে তার। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে এ নজির স্থাপন করেন তিনি।

সবচেয়ে বেশি বয়সী কোচ
অটো রেহেগাল এ কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তিনি ২০১০ বিশ্বকাপে গ্রিসের ডাগআউটে বসে এটা দেখিয়েছেন। ওই সময় তার বয়স ছিল ৭১ বছর ৩১৭ দিন।

খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে টুর্নামেন্ট জয়
মাত্র দুজনের এ নজির আছে- মারিও জাগালো ও ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের।

এত রের্কড জানার পরে এটা জেনে আশ্চর্য হবেন যে, বিদেশি কোচ নিয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারেনি কোনো দলই।

print