স্টাফ রিপোর্টার :পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা থেকে যুদ্ধাপরাধী মামলার ৫ জন আসামী কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে ভান্ডারিয়া উপজেলার আসামীদের তাদের নিজ বাড়ী থেকে পিরোজপুর ডিবি পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের ফজলুল হক হাওলাদার (৭৫), আব্দুল মান্নান হাওলাদার (৭৪), আজহার আলী হাওলাদার ওরফে আজু মুন্সি (৮৮), আশরাফ আলী হাওলাদার (৬৭) ও ভান্ডারিয়া উপজেলার চরকাখালী গ্রামের মো: মহারাজ হাওলাদার ওরফে হাত কাটা মহারাজ(৬৮)।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জি এম আবুল কালাম আজাদ জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে দায়ের করা মামলায় যুদ্ধাপরাধী অভিযোগে আসামীদের সকালে ভান্ডারিয়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ, ভান্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা বিজয় কৃষ্ণ বালা ২০১৫ সালের ৬ অক্টোবর পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একই ইউনিয়নের পূর্ব পশারিবুনিয়া গ্রামের আমীর হোসেন ও তার ভাই ফজলুল হক, নূরুল আমীন ও আ. মন্নানকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক সত্যব্রত সিকদার মামলাটি তদন্তের জন্য যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে পাঠনোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন ১৯৭১ সালের ৯ কার্তিক ভোরে আসামিরা পূর্ব পশারীবুনিয়া গ্রামে বিজয় কৃষ্ণ বালার বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা নিরোধচন্দ্র বালাসহ সাত জনকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর পূর্ব পশারীবুনিয়া গ্রামের বনমালী গাছারুর বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে এক দড়িতে বেঁধে দাঁড় করিয়ে গুলি করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে বিজয় কৃষ্ণ বালা প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর বাবা নিরোধ চন্দ্র বালা, ছোট ভাই রনজিৎ বালা, বোনের স্বামী সুকুমার মিস্ত্রী, প্রতিবেশী গঙ্গাচরণ হালদার, অমূল্য মিস্ত্রি, সমীর মিস্ত্রি মারা যান। এছাড়া একই বছরের ২০ জ্যৈষ্ঠ আসামিরা পূর্ব পশারীবুনিয়া গ্রামের উপেন্দ্র নাথ মিস্ত্রি, চিত্র রঞ্জন বেপারি, সতীশ চন্দ্র বেপারি, শরৎ চন্দ্র মাঝি, প্রকাশ হালদারকে গুলি করে হত্যা করে। আসামিরা বিভিন্ন সময় আরও ১৫ জনকে গুলি করে হত্যা করে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়। বাদী তার আর্জিতে আরও উল্লেখ করেন আসামিরা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নারীদের ধর্ষণ করে।

print