নির্ধারিত সময়ে শেষ করা কঠিন হবে, তাই পদ্মা সেতুর কাজ পুরো সম্পন্ন করতে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত সময় চায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চীনের মেজর ব্রিজ কোম্পানি। তবে, এখনো এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয় নি বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কারণগুলো বিশ্লেষণের পাশাপাশি ঠিক কতদিন সময় বাড়ানো হলে কাজ শেষ করা যাবে, সেটি নির্ধারণে কাজ করছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ঘন কালো মেঘ যেন এক অনিশ্চয়তার আড়ালে ঢেকে রাখতে চায় পদ্মার আকাশ। এটা পদ্মার জ্যেষ্ঠেও আষাঢ়ের রূপ।

কবিতার এই মেঘ রোদ্র ছায়ার মতোই নামে ঝুম বৃষ্টি। ভিজে যায় কোমল নদী, সমান্তরালে সেতুর দৃশ্যমান ইট, পাথরের কাঠামো। ক্ষণিক স্থবিরতা নামে কর্মব্যস্ততায়। তবু থেমে থাকে না দেশের সবচে বড়ো এ প্রকল্প। আবার শুরু যান্ত্রিক শব্দ, আবার প্রাণচঞ্চলতা। সেতুর কাজ শুরুর পর থেকে এটি গত ৩ বছর ধরে নানা বাধা, জটিলতা, চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগুচ্ছে কোটি মানুষের স্বপ্নরথ।

এখন পর্যন্ত সেতুর কাজে অগ্রগতি ধরা হচ্ছে ৬০ ভাগ। ৪১টি স্প্যানের মধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে ৪টি। কাজ চলছে আরো ১০টি পিলারের। কাজের মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। হাতে মাত্র আর ৬ মাস সময়। বহু কাজ বাকী। এ অবস্থায় ঠিকাদারির দায়িত্বে থাকা চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানি ৩ বার প্রস্তাব দিয়েছে মেয়াদ বাড়ানোর। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় নি সেতু কর্তৃপক্ষ।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সময় চাইলেই আমরা দিয়ে দিতে পারি না। কোন কারণে সময় চাইছে তার একটা যথাযথ প্রমাণ দিতে হবে। সেই প্রমাণ আমরা এখনও পাইনি। কাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন ২২টি পিলারের নকশা চূড়ান্ত করতে বিলম্ব হয়েছে। সম্প্রতি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের হাতে নতুন নকশা দেয়া হয়েছে। অন্যান্য জটিলতার পাশাপাশি নকশা সমস্যাকেও মেয়াদ বাড়ানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে তারা। তবে যে নকশাগুলো আগেই দেয়া আছে, সেগুলোর কাজও কাঙ্ক্ষিত সময়ে শেষ করতে পারে নি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

পদ্মা সেতুর বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, ‘কোনো যন্ত্রপাতি বসে নেই। কাজ চলছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে ২ বছর মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও অতিরিক্ত আরো এক বছর থাকছে ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে।

এখন পর্যন্ত কাজের যে অগ্রগতি তাতে নির্ধারিত সময় অর্থাৎ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করা যেকোনো ভাবেই অসম্ভব। তাই মেয়াদ বাড়াতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনা করছে সরকার। তবে যৌক্তিক কারণের চেয়ে একদিনও যেনো বেশি সময় না পায় সেদিকে জোর দিচ্ছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

print