পোলান্ডের উত্তর মধ্যাঞ্চলীয় গ্রাম নোয়া উইস উইলকা! গ্রামটি যে এলাকায় অবস্থিত, সেই ডোনলি স্লাসেক অঞ্চলের মেয়র গত ক’দিন ধরে বেশ বিপাকের মধ্যে রয়েছেন।  গত ২২ মে খোদ তার জমিতেই আকাশ থেকে রহস্যময় একটি ধাতবখণ্ড পড়ে।  ব্যাস, এরপর থেকেই কর্তৃপক্ষ, সংবাদমাধ্যম আর স্থানীয় জনতার কৌতুহল আর নানা প্রশ্নে জীবনটা তার ম্যারম্যারে হয়ে গেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ইউকে এক প্রতিবেদনে জানায়, ধাতব খণ্ডটিকে দেখে বিমানের অংশ বলে মনে হলেও গবেষকেরা একমত হতে পারেননি।  তাছাড়া ওই অঞ্চলে কোনো যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে বলেও শোনা যায়নি। তাহলে?

এই উত্তর মেয়রের জানার কথা না থাকলেও টুকরোটি যেহেতু তার জমিতেই পড়েছে, ফলে উত্তরটাও তাকেই দিতে হচ্ছে।  অবশ্য তিনি বলেও দিচ্ছেন, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।  সময় এলে কর্তৃপক্ষ সবই জানাবে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আসলে সেটা কি? ধাতব টুকরো সম্পর্কে পুলিশের ধারণা, এটি কোনো যুদ্ধবিমান কিংবা স্যাটেলাইটের অংশ।  কিন্তু ধাতব টুকরোয় যে সব তথ্য লেখা রয়েছে তা গবেষকদের কাছেও দুর্বোধ্য।

ফলে ধাতব টুকরো’র সঠিক পরিচয় জানতে পোলিশ বেসামরিক বিমান চলাচল এবং সিআইএনএএ (Committee for Investigation of National Aviation Accidents) যৌথ তদন্ত শুরু করেছে। তবে রহস্য সমাধানের আগেই ধাতব টুকরোটি ইউএফও’র ধ্বংসাবশেষ বলে স্থানীয়দের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও এমন গুজবকে পাত্তা দিচ্ছেন না যৌথ তদন্ত কমিটি।  তারা বলছে, নিশ্চিত না হলেও সেই ধাতব অংশটি চেক প্রজাতন্ত্রের মিগ-১৫ যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যেদিন রহস্যময় ধাতব টুকরোটির সন্ধান পাওয়া যায় সেদিন বলতে গেলে গোটা এলাকাতেই কার্ফু জারি হয়ে যায়। ঘটনার কারণে পুলিশ স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়।

সেদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে ডোনলি স্লাসেক পুলিশের মুখপাত্র কর্দিয়ান মাজুরিক বলেন, বেলা ১০টার দিকে থানায় ফোন করে মেয়র জানান যে তার জমিতে অজানা এক ধাতব টুকরো পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। তারা প্রথমে দেখে মনে করেছিল, টুকরোটি সম্ভব কোনো বিমানের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু নানা ভাবে সেটিকে পরীক্ষার পর তাদের মনে হয়, আসলে তা নয়। ধাতব টুকরোটির শরীরে যে সব লেখা খোদাই করা ছিল, তাও অজানা।

অবশ্য স্থানীয়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে সামাল দিতে পরে তদন্তকারীরা জানান, এটি মিগ ১৫ বিমানের ফুয়েল ট্যাংক বলেই মনে হচ্ছে। সম্ভবত যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিমানটির ফুয়েল ট্যাংকটি মাটিতে পড়ে যায়। পরে অবশ্য চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান বাহিনীও বিষয়টি নাকি নিশ্চিত করে। তারা জানায়, দুর্ঘটনার পরই নাকি বিমানটির চালক রিপোর্ট করেছিল। জানিয়েছিল, বিমানের দুটি ফুয়েল ট্যাংক’ই ওই অঞ্চলে পড়ে যায়।

প্রথমটি সম্পর্কে তার ধারণা থাকলেও দ্বিতীয়টির ব্যাপারে কোনো তথ্য চালকের কাছে ছিল না।  ফলে নোয়অ উইস’এ পাওয়া ধাতব টুকরোটি যে সেই বিমানের, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।  এসব কথায় অবশ্য গ্রামবাসীদের মত শান্ত হয়নি। ধাতব টুকরো সম্পর্কে তদন্তকারীদের কথা মেনে নিলেও ইউএফও শব্দটি তারা ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না।

print