স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব-দরবারে বাংলাদেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে যুব সমাজকে মাদকের অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে হবে।মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে সোমবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে আগামীকাল (২৬ জুন) মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালন করা হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।তিনি বলেন,বিশ্বকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২৬ জুনকে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে এ দিবসটি প্রতিবছর পালিত হয়ে আসছে।শেখ হাসিনা বলেন,বাংলাদেশ কোন মাদক উৎপাদন ও রপ্তানি করে না। গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলের মধ্যে থাকায় মাদকের অপব্যবহার ও পাচারের জন্য বাংলাদেশ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে মাদকমুক্ত করতে বদ্ধপরিকর এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর সরকার মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।তিনি বলেন,‘আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতা, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করেছি। দেশের শিক্ষা কারিকুলামে মাদকসংক্রান্ত বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়াবলী অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষার্থীদের মাদকের অপব্যবহার ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে। আমি অভিভাবক, শিক্ষক, ইমাম ও অন্যান্য ধর্মগুরুসহ নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মাদক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা ইতিমধ্যে মাদকাসক্ত, তাদের সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে।তিনি উল্লেখ করেন,সম্প্রতি বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এ অর্জনে দেশের যুবসমাজই মূল ভূমিকা পালন করেছে।শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেশকে মাদকমুক্ত করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
তিনি এ দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

print