স্বরুপকাঠী প্রতিনিধি : পিরোজপুরের স্বরুপকাঠী উপজেলার আটঘরে শতাব্দি ধরে বর্ষা মৌসুমে জলে ডাঙায় চলে আসছে নৌকার হাট। উপজেলা থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে আটঘররের খালে ও জলে প্রায় আধা কিলোমিটার জুড়ে বসে থাকে এ নয়নাভিরাম হাট। এ ঐতিহ্যবাহী নৌ- হাটকে কেন্দ্র করে উপজেলার আটঘর কুড়িয়ানা ও বলদিয়া মোট দু‘টি ইউনিয়নের প্রায় ১২ টি গ্রামের দেড় সহ¯্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ঘটে থাকে। বাংলা জৈষ্ঠ্য থেকে শুরু করে আর্শ্বিন চার মাস নৌকা বেচা-বিক্রির ধুম পড়ে যায় হাটে। তখন খালে জলে সমান তালে চলে বাহারী নৌকা বিকি-কিনি।
সপ্তাহে সোম ও শুক্রবার আটঘরের মানপাশা বাজার নিকটবর্তী খালে বসে থাকে এ নৌ সা¤্রজ্য। হাটে বেশির ভাগ নৌকাই আসে বলদিয়ার চামী, একতা ও কলারদোয়ানিয়া গ্রাম থেকে। একসময় সুন্দরি কাঠ দিয়ে এসব নৌকা তৈরী হত। এখন নানা বাধ্যবাধকতা সহ বিভিন্ন কারনে সুন্দরি কাঠ দু-স্পাপ্র বিধায়, হাটের নৌকাগুলো তৈরী হচ্ছে চাম্বল,রেইনট্রি,মেহগিনি, আমড়া সহ কড়াই কাঠ দিয়ে। প্রতি হাটে প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক নৌকি বিক্রি হয় থাকে এখানে। আর লোকজন বিভিন্ন জায়গা থেকে সড়ক ও জলপথের বিভিন্ন যানবাহনে করে একসাথে অনেকটি নৌকা কিনে নিয়ে যাচ্ছে স্ব-স্ব গন্ত্যব্যে। বিল ও চরাঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকার বিভিন্ন কাজে এসব নৌকা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে বাংলার আপেলখ্যাত কুড়িয়ানার বিখ্যাত পেয়ারা সংগ্রহ, চাঁই দিয়ে মাছ মারা,গো খাদ্য সংগ্রহ ও অত্র উপজেলার নার্সারী ব্যবসার বিভিন্ন কাজে বেশির ভাগ নৌকা বিক্রি হয়ে থাকে।যে দিকে চোখ যায় কেবল নৌকা আর নৌকা। এক একটি নৌকা ১৬০০ টাকা থেকে ৫০০০হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। নৌকা বেঁচা-বিক্রির এমন দৃশ্য কেহ আপন চোখে না দেখলে বিশ্বাসই আসবেনা একসাথে এত নৌকার সমগম ঘটতে পারে। গত শুক্রবার সকালে নৌহাট ঘুরে মনে হলো এ যেন এক নৌকার মেলা।
কথা হয় বলদিয়া ইউনিয়নের চামী গ্রাম থেকে আসা নৌকা বিক্রেতা কবির মিয়ার সাথে। তিনি ওইদিন হাটে বিভিন্ন সাইজের ৫০টি নৌকা নিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, একটি সাতহাতি চাম্বল কাঠের নৌকা ১৮শ থেকে দু‘হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া চাম্বল কাঠের একটি বারহাতি নৌকা ৪৫শ থেকে পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। একটি ৪৫শ টাকার নৌকায় তার ৫০০ থেকে ৬শ টাকা লাভ হয়ে থাকে।
রাস্তার উপরে নৌকার হাটের পাশেই বসেছে বৈঠার পশরা। নৌকার সাথে বেঠা বিক্রি হয়না বিধায় পাশেই আলাদাভাবে বসে থাকে বৈঠার দোকান। আমইর, আমড়া, গাভ,মেহগিনি কাঠের বৈঠা বিক্রি হয় হাঠে। একটি পাঁচ হাত সাইজের গাব কাঠের বৈঠা ২০০-২৫০টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে।
নৌকার হাটকে কেন্দ্র করে রাস্তার পাশেই বসে থাকে ছোট ছোট টোং দোকান। সেসব দোকানে গোলগোল্লা, পিয়াজু দেশিয় বেকারী সামগ্রীর রুটি বিস্কুট বিক্রি হয়ে থাকে। হাটে আসা দর্শনার্থী ও বেপারীরা ওই সব দোকানে আনন্দসহিত খেয়ে থাকেন।

print