ইন্দুরকানী প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে এক দিনমজুরের জমিতে ১০টি দোকানঘর নির্মান করতে চলেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী। শুধু তাই নয় শালিস বৈঠকের মাধ্যমে জমি নিজে পেলেও ঐ জমিতে যাতে না ফিরতে পারে সেজন্য একের পর এক সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানী করে সর্বশান্ত করেছে একটি অসহায় পরিবারকে। প্রভাবশালীর এ অবৈধ দখল থেকে পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরত পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় সহিদুল।
জানা যায়, উপজেলার চরবলেশ^র গ্রামের মৃত মোমিন গাজীর ছেলে মোশারেফ গাজীর সাথে একই গ্রামের সহিদুল চৌকিদারের দীর্ঘ দিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে গত কয়েক যুগ ধরে মোশারেফ গাজী দিনমজুর সহিদুলের ২০৮৭ দাগের ৩৬ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছে। এর মধ্যে বিরোধপূর্ণ চন্ডিপুর কেসি টেকনিক্যাল কলেজ সংলগ্ন জমিতে সম্প্রতি পাকা দোকানঘর নির্মান শুরু করে মোশারেফ গাজী। ওখানে তিনি ১০টি দোকানের পিলার গেথেছেন। ইতিমধ্যে ৪টি দোকানের দেয়ালও গেথেছেন মোশারেফ। পরে সহিদুল বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার থানা পুলিশকে অবহিত করে শালিশ বৈঠকে বসেন। জমির বৈধ মালিকানা হিসিবে তিনি বিবেচিত হলেও এতে কোন সুরাহা না পাওয়ায় বালিপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেনের দারাস্থ্য হলে তিনি ৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মেম্বারদের নিয়ে কাগজ পত্র যাচাই করে মোশারেফ গাজীর নির্মানাধীন স্থাপনার ৮ কাঠা জমির মধ্য থেকে ১০ শতাংশ জমি মেপে সহিদুলকে বুঝিয়ে দেন। যার স্থানীয় বাজার মূল্য রয়েছে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা। কিন্তু মোশারেফ গাজী তা না মেনে ঐ জমিতে আবার কাজ শুরু করতে গেলে সহিদুল কোর্টে কাজ বন্ধের জন্য ৪৪ ধারায় মামলা করেন। এরপর কিছুদিন ওখানে কাজ বন্ধ থাকার পর গত ২০ জুলাই সকালে মোশারেফ গাজী নির্মান কাজ শুরু করতে গেলে সহিদুল বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাক বিতন্ডা হয়। এরপর মোশারেফ গাজী কাজ বন্ধ করে নিজের মাথায় নিজে ব্লেড দিয়ে কেটে রক্তাক্ত করে সহিদুল ও তার পবিরারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। বর্তমানে ঐ সাজানো মামলায় সহিদুল জেল হাজতে রয়েছেন বলে বালিপাড়া ইউনিয়ন জেপির আহবায়ক কবির হোসেন গাজী সাংবাদিকদেও জানান। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় কয়েক’শ মানুষ সহিদুল ও তার পরিবারকে স্থপনার পাশে পরিত্যাক্ত ঘরে উঠিয়ে দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গত ২২ জুলাই বিকালে সহিদুলের পরিবারকে ঐ ঘর থেকে নামিয়ে দিতে গেলে উপস্থিত জনতার তোপের মুখে পড়েন। পরে ঐদিন রাত ৯টার দিকে ইন্দুরকানি থানার ওসি নাসির উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে শালিস মিমাংসার মাধ্যমে সুরাহার কথা বলে সহিদুলের পরিবারকে ঐ ঘর থেকে নামিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। তবে সহিদুল এখন জেল হাজতে থাকার সুবাধে মোশারেফ গাজী ঐ জমিতে অবস্থান নিয়েছেন।
৪ নং চরবলেশ^র ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম জানান, ঐ জমির বিরোধ নিয়ে বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ মাস আগে এ উপজেলার ৩ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলে বৈঠকের মাধ্যমে কাগজ পত্র দেখে ওখান থেকে ১০ শতাংশ জমি সহিদুলকে বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মোশারেফ গাজী তা মেনে না নেয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও এ দ্বন্দ চলছে।
জমির দাবিদার সহিদুল ইসলাম জানান, মোশারেফ গাজী বছরের পর বছর ধরে আমার এই জমি ভোগ দখল করে আসছে। শালিস বৈঠকে ঐ জমি চেয়ারম্যান আমাকে দিলেও ওখানে তারা আমাকে ভিরতে দিচ্ছেনা।
এ ব্যাপারে সরেজমিনে গেলে মোশারোফ গাজীর মেয়ে ফাতেমা বেগম সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে আমার দাদা মোমিন গাজী এই জমি কবলা করেন। আমার দাদা ১৯৯৮ সালে মৃত্যু বরন করলে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত আমার পিতা মোশারেফ গাজী ঐ জমি ভোগদখল করে আসছেন। যেখানে আমাদের দোকানঘর নির্মানের কাজ চলছে ওখানে সহিদুলের কোন জমি নেই। তার দাবি অনুযায়ী কাগজপত্র দেখে ১২ কাঠা জমি কেসি কলেজের মাঠ সহ অন্যত্র বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তারপরও স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেশী মহল ফায়দা লোটার জন্য সহিদুলকে আমাদের পিছু লাগিয়েছে।

print