পাকিস্তানের ২২ তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। রাজনীতিতে অনুপ্রবেশের প্রায় দুই দশক পর তিনি বহুল প্রত্যাশিত এই অবস্থানে আসতে সমর্থ হলেন। খবর ডনের।
শনিবার সকালে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভবনে শপথবাক্য পাঠ করেন ইমরান খান। প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
গত শুক্রবার, তিনি জাতীয় পরিষদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। জুলাই মাসের নির্বাচনে, তার দল পিটিআই অধিকাংশ আসনে জয় লাভ করে। পরে ছোট দলগুলির সহায়তায় তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ‘দেশটির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করাই হবে তার অগ্রাধিকারের বিষয়,’ জানিয়েছে বিবিসি। শনিবার সকালে শপথবাক্য পাঠের সময়, ইমরান কিছু শব্দে আবেগাপ্লুত হওয়ার পাশাপাশি উৎফুল্লও ছিলেন। ১৯৯২ সালের পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পিটিআই এর প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সামরিক কর্মকর্তারাও ছিলেন শপথ অনুষ্ঠানে।
শুক্রবারের ভোটে, ইমরান খান ১৭৬ জন সদস্যের দ্বারা সমর্থিত হন। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান মুসলিম লিগের নওয়াজ শরিফ লাভ করেন ৯৬টি ভোট। পার্লামেন্টে এক বক্তৃতায় ইমরান দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান আবারও পুনরাবৃত্তি করেন। এছাড়া তরুনদের জন্য দেশে সুযোগ তৈরীর দিকেও আলোকপাত করেন, এই ৬৫ বছর বয়সী নতুন প্রধানমন্ত্রী।
ইমরান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘আমি কোনো স্বৈরশাসকের কাঁধে চড়ে আসিনি। আমি এই অবস্থানে এসেছি আমার বাইশ বছরের সংগ্রামের ফলশ্রুতিতে’। এর আগে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান জানিয়েছিলেন,‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মুদ্রাস্ফীতি কমানোই হবে তার অগ্রাধিকারের বিষয়’। এছাড়া ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কথাও বলেছিলেন তিনি। দেশটির অর্থনৈতিক সমস্যা, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিকূলতার বিপরীতে ইমরানের নেতৃত্বে পাকিস্তান কতো দূর অগ্রসর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
print