ব্রেক্সিট ইস্যুতে মঙ্গলবার আবারো গণভোটের দাবি জানিয়েছে প্রায় ৭ লাখ বৃটিশ নাগরিক। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে যখন চেকার্সের ব্রেক্সিট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য সংগ্রাম করছেন এবং ব্রেক্সিট চুক্তির শতকরা ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে সোমবার হাউজ অব কমন্সেকে জানিয়েছেন,তখন এসব মানুষ লন্ডনের রাজপথে অবস্থান নিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইইউ থেকে বৃটেনের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আবারো গণভোটের আয়োজন করা হোক। বলা হচ্ছে, এক দশকের মধ্যে এটি যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় জনসমাগম। অনলাইন ইন্ডিপেন্ডেন্টের খবরে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ মানুষ লন্ডনের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। মাইলের পর মাইল শুধু মানুষ আর মানুষ। এর আগে বৃটেন সর্বশেষ এ ধরণের জনসমাগম দেখেছে ২০০৩ সালে। তখন ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করে রাজধানীতে জড়ো হয়েছিল ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কনজারভেটিভ পার্টির এমপি আনা সুব্রি বলেন, এক সময় আমরা সংখ্যায় কম ছিলাম। কিন্তু এখন আমরা অনেক। আমরা গণভোটের মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান ঘটাবো। তিনি বলেন, দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির পর কনজারভেটিভ পার্টির অনেক এমপি ব্যক্তিগতভাবে দ্বিতীয় গণভোটের পক্ষে ছিলেন। তারাও এ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির এমপি লায়লা মোরান বলেন, বিক্ষোভে বিপুল জনসমাগম বুঝিয়ে দেয় যে, নতুন গণভোটের দাবিতে মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। বলা হচ্ছে যে, নতুন গণভোটের আয়োজন করা হলে তা হবে অগণতান্ত্রিক ও দেশাত্ববোধশূণ্য। কিন্তু বাস্তবতা এর বিপরীত।

দ্বিতীয় গণভোটের দাবিতে আন্দোলনকারীরা মূলত ইইউর সঙ্গে থাকার পক্ষে। তারা যে বৃহৎ পরিসরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন, তা ব্রেক্সিটের সমর্থকদের থেকেও অনেক বেশি। বিক্ষোভকারীরা নীল ও সোনালী রংয়ের ইইউ’র পতাকা নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। অনেকে ‘ব্রেক্সিট ব্লক’ লেখা ব্যানারও প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীরা ব্রেক্সিট ইস্যুতে আবারো ভেবে মতামত দেয়ার সুযোগ দিতে নতুন করে গণভোট আয়োজন করতে বৃটেন সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়েছে।

বিক্ষোভ সমাবেশটি এমন একটি সময় প্রদর্শন করা হল যখন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী আবারো ব্রেক্সিটচুক্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ২০১৯ সালের মার্চের মধ্যে ইইউ’র সাথে চূড়ান্ত ব্রেক্সিট চুক্তি স্বাক্ষর করার কথা থাকলেও এখনো সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাজ্যের অধীন উত্তর আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়ে আয়ারল্যান্ডের সাথে সমঝোতা না হওয়ায় ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নতুন আরেকটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ব্রেক্সিট চুক্তির ৯৫ ভাগ শর্তে দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সোমবার হাউজ অব কমন্সে দেয়া ভাষণে তিনি এ কথা জানান। তবে আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়ে এখনো উভয়পক্ষের মধ্যে দর কষাকষি চলছে। এই ইস্যুতে স্থবিরতা কাটানোর জন্য বৃটেন সম্ভাব্য সকল বিকল্পই বিবেচনা করছে বলে মন্তব্য করেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার হাউজ অব কমন্সে ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে ভাষণ দেন থেরেসা। এসময় তিনি বলেন, চুক্তির ৯৫ শতাংশ বিষয়ে একমত হলেও আয়ারল্যান্ড সীমান্ত নিয়ে এখনো সঙ্কট রয়েছে। এক্ষেত্রে আরো ছাড় দেয়ার জন্য তিনি ইইউ’র প্রতি আহবান জানান। আয়ারল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে কঠোর সীমান্ত এড়ানোর জন্য ইইউকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা বৃটেনের অখন্ডতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন,উত্তর আয়াল্যান্ড ও বৃটেনের বাকী অংশের মধ্যে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হলে বৃটেনের অখন্ডতা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য সম্ভাব্য সব বিষয় বিবেচনায় রেখেছেন।

তবে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ব্রেক্সিট সমন্বয়ক গাই ভেরহফস্তাত বলেন, ৯৫ শতাংশ না, চুক্তির ৯০ শতাংশ বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়েছে। আয়ারল্যান্ড সীমান্ত এখনো ব্রেক্সিট চুক্তির বড় বাধা। তবে ডিসেম্বরের ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

বর্তমানে ইইউ থেকে চুড়ান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য বৃটেনের হাতে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময় হাতে রয়েছে। তবে দ্রুতই চুক্তি না হলে বৃটেনকে কোন রকমের সমঝোতা ছাড়াই ইইউ ছাড়তে হবে। এক্ষেত্রে অন্তবর্তীকালীন সময় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইইউ’র সঙ্গে সব ধরণের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বৃটেনকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময় দেয়া হতে পারে।

print