অক্টোবর হলো ব্রেস্ট ক্যানসার সচেতন মাস। অভ্যাস ও জীবনযাত্রা পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজে নিজেই এ ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিরোধ করা যায়। এ জন্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শের প্রয়োজন নেই। ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত : সমন্বিত ও উত্তম ব্যবস্থার উপাত্ত সংগ্রহ, ক্যানসার রেজিস্ট্রি, আশু ক্যানসার নির্ণয় কর্মসূচি, অংশগ্রহণকারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার মাধ্যমে জনসাধারণ ও চিকিৎসকদের সচেতন করে তোলা। আশু ক্যানসার নির্ণয় কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে দুভাবে।

ক্যানসারের চিহ্ন ও লক্ষণগুলো সম্পর্কে জনসাধারণকে অবহিত করা এবং তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা দরকার। ত্রিশোর্ধ্ব নারীর নিয়মিত ব্রেস্ট পরীক্ষা করা প্রয়োজন। নিজে নিজেই স্তন ক্যানসার পরীক্ষার মাধ্যমে স্তন ক্যানসার নিরাময়ের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। কোনো ধরনের সন্দেহ হলে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যাদের মা-খালা বা নানির ব্রেস্ট ক্যানসার আছে বা ছিল, বংশপরম্পরায় প্রজন্মের কারো কারো ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অন্যের তুলনায় তিনগুণ বেশি।

প্রতিরোধের পন্থা : প্রধানত সবজি ও ফল খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত খাবার না খাওয়া ভালো। অতিরিক্ত ওজন পরিহার করুন। পেশাগত কাজকর্মে নড়াচরা করার প্রয়োজন না হলে প্রতিদিন ১ ঘণ্টা দ্রুতগতিতে হাঁটুন বা এমন কোনো ব্যায়াম করুন, যাতে শরীর থেকে পানি বের হয়। প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ সবজি ও ফলমূল খান। বিভিন্ন ধরনের দানা শস্য, শিম জাতীয় খাবার খেতে পারেন। মদ্যপান সম্পূর্ণ পরিহার করুন।

মাংস খেলে লাল মাংস দৈনিক তিন আউন্সের কম খাবেন। লাল মাংসের বদলে মুরগির মাংস বা মাছ খাওয়া ভালো। চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ সীমিত রাখুন। উপযুক্ত পরিমাণ ভেজিটেবল তেল ব্যবহার করুন। লবণাক্ত খাবার সময় সীমিত করুন। ধূমপান ও তামাকপাতা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। পর্যাপ্ত নিদ্রা ও বিশ্রাম নেবেন। সবচেয়ে গুরুতপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, ২০-৩০ বছরের মধ্যে বিয়ে করুন এবং সন্তান গ্রহণ করুন। সন্তানকে বুকের দুধ পান করান। অবিবাহিত এবং নিঃসন্তান নারীর ব্রেস্ট ক্যানসার বেশি হয়।

লেখক : সাবেক পরিচালক ও অধ্যাপক
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল মহাখালী, ঢাকা
চেম্বার : রিলায়েন্স মেডিক্যাল সার্ভিসেস
৫৩ মহাখালী, ঢাকা

print