আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট এবং জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ন্যাশনাল এ্যালাইন্স (ইউএনএ) সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণে সম্মত হয়েছে।
আজ রাতে গণভবনে দুই জোটের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের আইন ও সংবিধান অনুযায়ী আমরা আগামী নির্বাচনে যোগ দিতে সম্মত হয়েছি।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে একমত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘১৪ দল ও মহাজোট নির্বাচনে লড়াই করতে এবং একসঙ্গে সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে।’
বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে কি অবস্থান নেয়া হবে প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণের ভিত্তিতে জোট তখন ব্যবস্থা নেবে।
মহাজোটের মধ্যে আসন বণ্টন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ বিষয়টি এখনও চূড়ান্তকরণ হয়নি। তিনি বলেন, একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।

বিএনপি মহাসচিবের আন্দোলনের হুমকি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার তাদের হুমকিতে ভিত নয়। তিনি বলেন, বিএনপি যদি মনে করে হুমকি ও আন্দোলনের নামে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে আইন ও সংবিধান থেকে সরানো যাবে, তাহলে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আমরা জানি তাদের কি পরিমাণ শক্তি আছে। মির্জা ফখরুলের মতো বিএনপি নেতারা গত ১০ বছর ধরে আন্দোলনের হুমকি দিয়ে আসছে। কিন্তু গত ১০ বছরে ১০ মিনিটের জন্যও তাদেরকে রাজপথে দেখা যায়নি।
কাদের বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র তিনদিন বাকি আছে। এ সময়ের মধ্যে তারা বঙ্গোপসাগর থেকে একটি ঘূর্ণি ঝড়ের সৃষ্টি করবে এবং রাজপথ কাঁপাবে, বাংলাদেশের জনগণ তা বিশ্বাস করে না।
আগামী নির্বাচনে ড. কামাল হোসেন টুঙ্গিপাড়া থেকে জয়লাভ করবেন বলে কাদের সিদ্দিকী যে মন্তব্য করেছেন সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ইতিহাস তা বলে না। তাদের সঙ্গে সংলাপ চলছে। তাই ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে আমরা কিছু বলতে চাই না। তিনি মাত্র একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাও আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।
এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অপ্রয়োজনীয় বিষয় প্রশ্ন না করার জন্য সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন। কারণ তারা আবার সংলাপে আসবে।
এর আগে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেন, উভয় পক্ষ সম্মিলিতভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং সংবিধান সমুন্নত রাখতে সম্মত হয়েছে। তিনি বলেন, দুই জোটের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। তারা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে মতবিনিময় করেন।

তিনি বলেন, সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে গতবারের মতো আমরা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেবো। আসন বণ্টন প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির এ সিনিয়র নেতা বলেন, এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন আলোচনা হয়নি। ‘তবে আওয়ামী লীগ আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য বেশিসংখ্যক আসন দেয়ার ব্যাপারে আমাদেরকে আশ্বাস দিয়েছে। তিনি বলেন, পরে দুই পক্ষের একটি ছোট কমিটির মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।’
জিএম কাদের বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে জাতীয় পার্টি সকল আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।
এর আগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অর্থবহ হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগ জনগণের একটি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আগামী নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তারা এটি প্রয়োগ করবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি অর্থবহ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’
গত ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়নের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পথে সরকারের অগ্রযাত্রায় জাতীয় পার্টি পাশে ছিল। তিনি বলেন, ‘এ দলটির সহযোগিতার জন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।’ দেশের উন্নয়নই তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) লক্ষ্য একথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের শুরু করা উন্নয়ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশকে একটি স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেন এবং তাঁর পদক্ষেপ অনুস্মরণ করে আমরা বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করেছি।’
গণভবনের ব্যাঙ্কুয়েট হলে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে দুই জোটের মধ্যে এই সংলাপ শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সংলাপে ১৪ দলীয় জোটের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অন্যদিকে, ‘ইউনাইটেড ন্যাশনাল এলায়েন্স’ (ইউএনএ)-এর ৩৩ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জোটের ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ব্যাঙ্কুয়েট হলে প্রবেশ করেন তখন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

print