স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থী ঠিক করলেও বিএনপির কৌশল দেখে জোটগত প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নের চিঠি দেওয়ার পরদিন সোমবার দলের ধানম-ির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, “টেকনিক্যাল এবং স্ট্র্যাটেজিক্যাল কারণে আমরা আমাদের জোটগত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ আজকে করছি না। আমাদের প্রার্থীদের স্ক্রুটিনি শেষ হওয়ার পর সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এনে আমরা জোটের তালিকা প্রকাশ করব।”
নিজেদের পুরনো জোট ১৪ দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও বিকল্প ধারাকে সঙ্গে নিয়ে মহাজোট গড়ে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। জোটভুক্ত দলগুলোকে ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন কাদের।অন্যদিকে বিএনপি এবার নির্বাচন করছে ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে। ঐক্যফ্রন্টে গণফোরাম, জেএসডি, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য রয়েছে।বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে যাবে ভেবে কি আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না- এ প্রশ্নে কাদের বলেন, “এমনটা আমরা ভাবছি না। তবে প্রতিপক্ষের যে কৌশল, সেটা তো আমাকে দেখতে হবে। আমি কৌশলে মার খেতে চাই না। কৌশলেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।“এছাড়া কিছু আসনে আমরা একাধিক প্রার্থীকেও মনোনয়ন দিয়েছি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর আমরা মাঠ পর্যায়ে আরেকটি জরিপ করব। কে আসলে জনগণের কাছে বেশি জনপ্রিয়, এটা আমরা বিবেচনায় নেব। আবার কোনো কোনো প্রার্থী ঋণ খেলাপির মধ্যেও থাকতে পারে।“সব মিলিয়ে আমরা বোঝাপড়ার মাধ্যমে মহাজোটের প্রার্থী ঘোষণা করব। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করব।”রোববার যে দুই শতাধিক জনকে মনোনয়নের প্রত্যয়ন দেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।ফাইল ছবি ফাইল ছবি “এটা গণমাধ্যমের জন্য করিনি। আমরা তালিকা করেছি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য। আমাদের তালিকা অফিসিয়ালি প্রকাশ করার আগে শোনা কথা এভাবে লিখলে, প্রচার করলে বিব্রত হওয়ারই কথা।
“অনেক প্রার্থী মনোনয়ন পায়নি, তারপরও বিভিন্ন টিভি ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। এই ধরনের বিব্রত বোধ করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করছি।”কক্সবাজারে বিতর্কিত সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আসনে তার স্ত্রীকে এবং হত্যামামলায় বন্দি টাঙ্গাইলের আমানুর রহমান খান রানার আসনে তার বাবাকে প্রার্থী করা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন কাদেরকে।উত্তরে তিনি বলেন, “বদিকে নিয়ে কন্ট্রোভার্সি আছে, সে জন্য করিনি। বদির বউয়ের অপরাধ কী? বদি অপরাধী হলে তার ভাগিদার কি তার স্ত্রী? নো।“রানার বাবা, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। রানা জেলে, সে যে খুন করেছে, এটা এখনও কোর্টে প্রমাণিত হয়নি। এই অবস্থাও আমরা তাকে মনোনয়ন দিতে পারতাম। কিন্তু কন্ট্রোভার্সি আছে, তাই তাকে দিইনি।”নিজেদের চালানো জনমত জরিপে এবারও রানা ও বদি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিল বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।“এতসব বিতর্কের মধ্যেও সাতটি জনমতের জরিপে বদি এগিয়ে, এদিকে রানাও সাতটি জনমত জরিপে এগিয়ে। তারপরও তাদের আমরা মনোনয়ন দিইনি। এমন দুজনকে মনোনয়ন দিয়েছি, যারা নিরপরাধ।”এবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হলে দলে ফেরত নেওয়া হবে কি না- জানতে চাইলে কাদের বলেন, “বিদ্রোহ মানেই বহিষ্কার। আজীবন বহিষ্কার। আওয়ামী লীগ দিনে দিনে আরও মডার্ন হচ্ছে।”বিএনপির নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এমনটা আমরা আশঙ্কা করছি না, আমরা চাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হোক।”তবে নির্বাচনের একমাস আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা কামাল হোসেনের সিইসিকে অপসারণের দাবি তোলার বিষয়টি দেখিয়ে কাদের বলেন, তারা নির্বাচন থেকে সরে পড়ার বাহানা খুঁজছে।

print