স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-স্বরুপকাঠী) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক বিশিষ্ট টক শো’ ব্যক্তিত্ব শ ম রেজাউল করিমকে ঘিরে দলের মধ্যে থাকা পুরানো বিরোধের অবসান হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন ত্যাগী ও পুরানো নেত-কর্মীরা। তাদের উদ্দেশ্য একটাই- এ আসনটিকে ধরে রাখতে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নৌকা উপহার দিতে। আর নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কর্মীসভা ও উঠোন বৈঠক করে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয় সেন্টার কমিটিও গঠন করছে।
জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের পরের দিন ২৯ নভেম্বর বেলা ১১টায় নাজিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সভায় কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা শ ম রেজাউল করিমকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট এসএম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী খান পান্না, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাষ্টার অমূল্য রঞ্জন হালদার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান খান তালুকদার, পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মতিউর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল আহসান গাজী, নাজিরপু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন খান, যুগ্ম সম্পাদক শাহ আলম ফরাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান আতিয়ার, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ খান টিটু, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এম খোকন কাজী, সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হাসান ডালিম, সাধারণ সম্পাদক সুমন হাওলাদার প্রমূখ। কর্মী সভায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, পৌর আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ সহ অন্যান্য কয়েকটি সহযোগি সংগঠন শহরের পুরাতন পৌরসভা রোডের জেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে বেশ কয়েকবার সভায় মিলিত হয় দলীয় নেতা কর্মীরা। এতে প্রথান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সহসভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব মো. হাবিবুর রহমান মালেক এবং প্রধান অতিথী ছিলেন নৌকার প্রার্থী শ ম রেজাউল করিম। এসব কর্মী সভার মধ্য দিয়ে শ ম রেজাউল করিমের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার শপথ নিয়েছেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলা বির্নিমানে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার এ উন্নয়ন আগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে, নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। আর বিজয়ের মাধমে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে।
সভায় শ.ম রেজাউল করিম বলেন, সবার দোয়া ভালবাসা নিয়ে পথচলা। আওয়ামী পরিবারের সকল নেতা-কর্মী একসাথে মিলেমিশে পিরোজপুর থেকে নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করে জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এ আসনটি তুলে দিতে চাই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এখানে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চাওয়া-পাওয়া, আশা-আকাঙ্খা নিয়ে কিছুটা বিভেদ থাকতেই পারে। তাই নিবার্চনের পূর্বে আমরা নানা ভাবে আমরা বিভক্ত ছিলাম। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এক হয়ে কাজ করতে।
তবে এ কে এম এ আউয়াল ও তার গুটি কয়েক অনুসারি শ ম রেজাউল করিমের পক্ষে কাজ করবেন কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এমপি আউয়াল মনোয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে মনোনয়নপত্র দাখিল করায় দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা প্রচন্ড ক্ষুব্দ হয়েছেন। এসব ত্যাগী, পুরানো এবং প্রকৃত আওয়ামীলরা তাকে দল থেকে বহিস্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করেছেন। এদিকে আর এক মনোনয়ন বঞ্চিত শেখ এ্যানী রহমানের সমর্থকরা শ ম রেজাউল করিমকে সমর্থন দিয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ একেএমএ আউয়ালের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়ন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরোধিতা, হাইব্রীডদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন, স্বাধীনতা বিরোধীদের পূনর্বাসন, কাউয়াদের আশ্রয় প্রশ্রয় করাসহ বিভিন্ন কারণে উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছিলো। এক পর্যায়ে এমপি আউয়ালের এ সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলেন তারই সহদর পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। তাছাড়া বিগত এক বছরেরও বেশী সময় ধরে পিরোজপুর-১ আসন থেকে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে থাকায় দলের এ উপজেলা বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা কয়েকভাগে বিভক্ত ছিলো।

print