স্টাফ রিপোর্টার : একাত্তরের মহান মুক্তিযুাদ্ধের নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হয়ে রয়েছে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার বড়ছাকাঠি গ্রামের ৭ শহীদের এক কবর। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ নভেম্বর রাতে পাকসেনা ও স্থানীয় দসোররা এ গ্রামে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে একই বাড়ির ৭ জনকে গুলিকরে হত্যা করে।
বড়ছাকাঠি গ্রামের মাঝি বাড়ির সেদিন পাকসেনা ও রাজাকাররা যে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তাতে একই সঙ্গে ওই বাড়ির আপন চার ভাইসহ তাদের তিন সন্তান শহীদ হন। পাকসেনাদের সেই বর্বরোচিত হত্যায় যাঁরা শহীদ হন তাঁরা হলেন, ছলেমান মিয়া (৫২), মুজাফফর মিয়া (৬০), মফেজউদ্দিন মিয়া (৪৯), জয়নাল মিয়া (৪২), অজিয়ার মিয়া (১৯), আলম মিয়া (২০) ও রফেজ মিয়াকে (৫৩) পরে ওই দিনই হানাদার বাহিনী কাছারিডলা ভূমি অফিসের সামনে এনে সবাইকে একসঙ্গে বেঁধে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।
বড়ছাকাঠি গ্রামের শহীদ পরিবারের সদস্যরা জানান, ৭১ এর ৮ নভেম্বরে পাকসেনা ও তাদের দোসরদের নির্মমতার কাহিনী। হায়ওনার দল সেদিন রাতে এ বাড়ির ৭জন সহ আরও ৬ জনকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে উপজেলার ইন্দেরহাট নদীর পাড়ে নিয়ে একসঙ্গে গুলি করে। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৪১ বছর হলেও তাদের কেউ খোঁজ খবর রাখে না। তবে ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কল্যাণ তহবিল থেকে ওই পরিবারকে একটি করে বাড়ি, দেড় মণ চাল এবং একটি করে কম্বল অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তহবিল থেকে শহীদ ছলেমান মিয়ার স্ত্রী রাবেয়া বেগমসহ অন্যদেরও এক হাজার টাকা করে চেক প্রদান করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও ওই সব শহীদ পরিবারের কথা আর কেউ মনে রাখেনি এবং কেউ খোঁজও নেয়না। শহীদ পরিবারের স্ত্রী ও সদস্যরা জানান, তারা এখনও আর্থিকভাবে সচ্ছল নয়। অনেকেই পেটপুরে তিনবেলা ভাত খেতে পারে না। শহীদ পরিবাররা একদিকে স্বজন হারানোর ব্যথা অপরদিকে অভাব অনটনের যন্ত্রণায় দিনাতিপাত করছে।

print