স্টাফ রিপোর্টার : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুরের ৩ টি সংসদীয় আসনের ভোট যুদ্ধের মূল লড়াই এবার হবে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের মাঝে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে পিরোজপুরের ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে । এতে করে বর্তমান প্রার্থীর সংখ্যা দাড়িঁয়েছে ২২ জনে। তবে মার্কা প্রাপ্তির পরে এই সংখ্যা আরো কমে যাবে। এ কারণে নির্বাচনী এলাকা ঘূরে দেখা গেছে পিরোজপুরের ৩ টি সংসদীয় আসনে ৩০ ডিসেম্বররের ভোট যুদ্ধের মূল লড়াই হবে মহাজোট ও ঐক্যফ্যন্টের প্রার্থীদের মাঝে।
পিরোজপুর-১ (সদর-নাজিরপুর-স্বরুপকাঠী) নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. শ. ম. রেজাউল করিম। এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন যুদ্ধাপরাধে দন্ড প্রাপ্ত জামায়েত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী। মূলত এ আসনে ভোটের লড়াই হবে এই দুই প্রার্থীর ভিতরে। এছাড়া এই আসনে নির্বাচন করেবে সিপিবির ডা. তপন বসু, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাসুম বিল্লাহ ও এনপিপি এর মেহেদী হাসান রনি। এদিকে এ আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার সরোয়ার হোসেন ও ঐক্যফ্রন্টের মোস্তফা জামাল হায়দার মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও মার্কা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এই নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছে।
পিরোজপুর-২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী) নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু । এই আসনকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘মঞ্জু ভাইয়ের আসন’। ১৮ বছর মন্ত্রী ও ৬ বার এমপি নির্বাচিত জাতীয় পার্টি ( জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এই আসন দিয়ে নির্বাচন করবে। এই আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। এছাড়া এই আসন দিয়ে আরো নির্বাচন করবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবুল কালাম আজাদ, সিপিবির মো. আব্দুল হামিদ ও বিএনএফ এর রেজাউল করিম গাজী। এদিকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও আহম্মেদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের মার্কা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি এই নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছে।
তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র বিরাজ করেছে মঠবাড়িয়া একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-৩ সংসদীয় আসনে। এখানে নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়েছেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী আর ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন দুলাল। তবে মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে এই আসনে স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন জেলা আওয়ামীলীগ সদস্য আশরাফুর রহমান। মূলত এই আসনের ভোটের লড়াইটা হবে ত্রিমুখী। এছাড়া এই আসন দিয়ে আরো নির্বাচন করবে সিপিবির এ্যাড. দিলিপ কুমার পাইক, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওলানা মো. সগীর হোসেন, স্বতন্ত্র মোহাম্মদ আবদুল লতীফ সিরাজি, স্বতন্ত্র মো. রিয়াজ উদ্দিন। এদিকে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পত্র জমা দিলেও কর্ণেল (অব:) শাহাজাহান মিলনের মার্কা নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি এই নির্বাচন থেকে ছিটকে পড়েছে।
তাই স্থানীয় সাধারণ ভোটাররা মনে করছে এই তিন আসনে ভোটের লড়াই মূলত মহাজোট আর ঐক্যফ্রন্টের মাঝেই হবে।

print