পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনে (পিডিবিএফ) একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই গঠন করা হয়েছে পিডিএফ কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট। ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে নিয়োগের জন্য নির্ধারিত তারিখের মধ্যে দরখাস্ত আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পরেও এই পদে যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে রহস্যজনক কারণে ভারপ্রাপ্ত এমডি নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত এমডি মদন মোহন সাহার বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফের বর্তমান প্রধান কার্যালয়ের বাড়িটি (সম্প্রতি এই বাড়ির মালিক ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন) ক্রয়ের নামে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ১০ হাজার টাকার শেয়ার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত এমডি বিদেশি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে ফিন্যান্সিয়াল এসোসিয়েট হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি পিডিবিএফের কর্মচারীদের ওই কোম্পানিতে ইন্স্যুরেন্স খুলতে বাধ্য করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশের কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেলের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পিডিবিএফের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয় সরকারের এবং ফাউন্ডেশনের আইন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে না। বোর্ড অব গভর্নরসকে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে এবং এই বোর্ডের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের জনবল অবকাঠামো সঠিকভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ক্ষমতা থাকায় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিয়োগ পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

কোনো কোনো প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করে ও শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার সনদ না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ পেয়েছে। নিম্নপদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিয়ে উচ্চপদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। শিক্ষানবিশকাল শেষ না হওয়ার আগেই চাকরি নিয়মিত করার ঘটনাও ঘটছে।

ফাউন্ডেশনের বেতন স্কেল অনুসরণ না করে উচ্চতর বেতনে নিয়োগ দেয়া, নির্দিষ্ট পদের বিজ্ঞাপন প্রচার করে অন্য পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। অনিয়মের মাধ্যমে পিডিবিএফে ৪৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়ার প্রমাণ মিলেছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, অডিট রিপোর্টে অনেক অভিযোগ তুলে ধরে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত পূর্বের ব্যবস্থাপক (আইটি) বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন) শহীদ হোসেন সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (মাঠ পরিচালন) আমিনুল হকের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ একাধিক অডিট রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। কম্পিউটার সাইন্সে এডভান্স ডিগ্রি এবং অভিজ্ঞতার সনদ না থাকা সত্ত্বেও শহীদ হোসেন সেলিমকে নিয়োগ দেয়া হয়।

বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন ব্যবস্থাপক (ফান্ড ম্যানেজমেন্ট) আমিনুল হককে নিয়োগ দেয়া হয়। এ কারণে তাদের নিয়োগ বাতিল, বেতন বাবদ নেয়া সব টাকা আদায় করা, চাকরিচ্যুত করা ও নিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

পুরো বিষয়টি সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করার পরেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সম্প্রতি বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প অডিট অধিদপ্তর থেকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়ে সমবায় সচিবকে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সচিবকে দেয়া চিঠিতে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তের অগ্রগতির জবাব চাওয়া হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মদন মোহন সাহা বলেন, যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এই ফাউন্ডেশন পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড রয়েছে।

বোর্ডে সরকারের দুজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়েছেন। যে কোনো সিদ্ধান্ত এই বোর্ডের সর্বসম্মতিতে গ্রহণ করা হয়। আমার একক সিদ্ধান্তে কিছুই হয় না। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।

print