টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় আসায় দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে উদ্যোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকার। ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নে ভাসবে।

নতুন সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। আর টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য সরকার গঠন করা মহাজোট সরকারও চাইছে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নিতে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিশ্রুতির সঙ্গে দেশের জনগণ তথা সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি জড়িত সেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে। এজন্য সরকার গঠনের শুরু থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে নতুন সরকার জোর দিচ্ছে বলে একটি সুত্র জানিয়েছে।

এ লক্ষ্যে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গৃহীত এবং গৃহীতব্য কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ করছে তারা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে পৃথক দুটি চিঠি পাঠিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের বিভিন্ন তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে, যা নতুন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০১৮তে উল্লেখ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের বিগত ১০ বছরে দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রায় পুরোটাই বাস্তবায়ন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার। এ সময় দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পেয়েছে। দারিদ্র্য ও বেকারত্বের হার কমেছে। চলমান উন্নয়ন টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে বর্তমান মেয়াদেও বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচতি ইশতেহারে; যা নতুন মেয়াদের শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করতে চাইছে নতুন সরকার।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, এ মাসের প্রথম সপ্তাহেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে দুটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠি দুটিতে নতুন সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গৃহীত এবং গৃহীতব্য কার্যক্রমের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এখন চাহিদানুযায়ী তথ্য প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং শিগগিরই তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা অধিশাখা-২ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে নির্বাচনি ইশতেহার-২০১৮তে দেওয়া প্রায় ১৮টি প্রতিশ্রুতির উল্লেখ করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছেটেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, বেসরকারি খাতে নতুন মূলধন সৃষ্টির হার বৃদ্ধি, জনসংখ্যার বয়স কাঠামোর সুবিধাকে কাজে লাগানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, উচ্চহারে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায়, বাজেট প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতের উন্নয়ন এবং অর্থ পাচার রোধ করা, অবকাঠামো রূপান্তরের লক্ষ্যে বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, সার্বিক উন্নয়নে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিশু কল্যাণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, আর্থিক খাতের লেনদেনকে ডিজিটাল করার প্রয়াস অব্যাহত রাখা, অ-কৃষি খাতের সেবার পাশাপাশি হাল্কা যন্ত্রপাতি তৈরি ও বাজারজাত করতে বেসরকারি খাতের প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ সুবিধাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা, দারিদ্র্যবিমোচন, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদান বিষয়ে নিজস্ব বিধি ও রীতি অনুযায়ী কাজ করার অধিকার অব্যাহত রাখা।

এর আগে ৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে গভর্নর ফজলে কবির বরাবর আরেকটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে ঋণসহ ব্যাংক জালিয়াতি কঠোর হস্তে দমন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঋণ গ্রাহক ও দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদেশে অর্থ পাচার ও সম্পদ গচ্ছিত রাখা প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণসহ ১২ রকমের তথ্য পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে, যা নির্বাচনি ইশতেহার ২০১৮তে উল্লেখ রয়েছে।

মো: ফেরদৌস রহমান (ডেস্ক এডিটর)

print