প্রতিদিনের মতোই বাবা-মার পাশে ঘুমিয়ে ছিল আড়াই বছরের শিশু কন্যা মুসলিমা। কনকনে শীতে ঠাণ্ডাজনিত অসুখে ভুগছিলেন তার বাবা মাসুদ। কিন্তু এরই মাঝে ঘুমিয়ে থাকা শিশু কন্যা ও স্বামীকে রেখে পালিয়ে যাবার সুযোগ খুঁজছিলেন মা শাপলা বেগম। ঘটনার দিন রাতের কোনো এক সময় মায়ের বিছানা ছেড়ে উঠে যেতেই টের পেয়ে যায় শিশু কন্যা মুসলিমা। পরে ‘মা-মা বলে ডাক চিৎকার করতেই ঘুম ভেঙ্গে যায় অসুস্থ বাবার’।

এদিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েছে স্ত্রী এমন বিশ্বাসে ‘মা আসছে, আসছে’ বলে শিশুকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন শিশুটির অসুস্থ বাবা মাসুদ। কিন্তু সেই চলে যাওয়া মা-আর ফিরে আসেনি। মায়ের মমতার কাছে হেরে যায় শিশু মুসলিমা।

সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী এক খালাতো ভাই প্রেমের ফাঁদে ফেলে শাপলা বেগমকে নিয়ে ওই রাতে পাড়ি জমিয়েছে অজানা সুখের উদ্দেশে। দুই পরিবার অনেক খোঁজখবর করেও তাদের সন্ধান পায়নি।

গত ৫ জানুয়ারি রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তুলশীপুর চকপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ছোট শিশুটির দাদী মাবিয়ার কোলে চরে শিশু মুসলিমা এদিক-ওদিক তাকিয়ে কি যেন দেখে চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। শিশুটি মাঝে মাঝে মা-মা ডেকে কান্না কাটি করে চলেছে। মায়ের সেই পরম মমতা ছাড়া এখন আর কোনো কিছুই ভালো লাগছে না ছোট্ট মুসলিমার।

তবুও মিথ্যা আশ্বাসে ‘মা আসছে’ বলে শিশুটিকে সান্ত্বনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করছেন শিশুটির দাদী। শুধু মুসলিমা নয়, শাশুড়ি মাবিয়ার চোখেও অশ্রুর বন্যা বাসা বেঁধেছে। শিশুটির বাবা মাসুদের চোখে মুখেও বিষন্নতার ছাপ দেখা গেছে।

স্বামী মাসুদ জানান, ‘স্ত্রী চলে যাওয়ার চাইতে বেশি মর্মাহত হয়েছেন অবুঝ শিশুকে নিয়ে। তাকে কি করে বোঝাবেন, তার মা তাকে ফেলে রেখে, না বলে রাতের অন্ধকারে মনের মানুষকে নিয়ে সুখ খুঁজতে চলে গেছে!’

তিনি আরও জানান, ‘ঘটনার রাতে শিশুর কান্নায় তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। প্রকৃতির ডাকে বাইরে গিয়েছে বলে প্রথমত ভেবেছিল। আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর তার না ফেরা দেখে বাইরে বের হয়ে খুঁজতে শুরু করি। এমনকি সারা রাত ধরে খোঁজ করেও পাইনি। পরে সন্ধান নিয়ে জানতে পারি তার খালাতো ভাই সেলিমের হাত ধরে পালিয়েছে।’

শাশুড়ি মাবিয়া বেগম জানান, আত্মীয়তার সূত্র ধরে বাড়িতে উঠা-বসা করতো সেলিম। এর মাঝে পরকীয়ায় জড়িয়েছে তা তারা বুঝে উঠতে পারেননি। শাপলা চলে যাওয়ার পর একই গ্রামের আসমত আলীর ছেলে সেলিমকে না পেয়ে তাদের পরকীয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হন।

এ ঘটনা জানতে সেলিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

তবে সেলিমের মা হালিমা বেগম জানান, শনিবার রাতে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে। পরে আর বাড়ি ফেরেনি। এক পর্যায় ফোন করেও কোন খোঁজ পাননি বলে জানান হালিমা।

অন্যদিকে শাপলাকেও তার বাবার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার পিতা আত্তাব আলী জানান, ওই রাতের পর থেকে তাদের দুই জনের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী জানান, মৌখিকভাবে বিষয়টি শুনেছি। তবে লিখিত কোন অভিযোগ পায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন ওসি মহসীন আলী।

মো: ফেরদৌস রহমান (ডেস্ক এডিটর)

print