বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
পদ্মাসেতু পার হতে কত টোল লাগবে পিরোজপুরে সাংবাদিক আমির খসরু’র মা কে শ্বাসরোধে হত্যা নাজিরপুরে ট্রাক ভর্তি লোহার কাঁচামাল ছিনতাইয়ের কালে আটক-৩ পিরোজপুরে বৈদ্যুতিক মিটার চুরির অভিযোগে একজন গ্রেপ্তার পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে পদন্নোতি পেয়েছেন পিরোজপুর এর কৃতি সন্তান এ কে এম এহসান উল্লাহ্ পিরোজপুর জেলা ইমারত নির্মান শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে আলমগীর সভাপতি ও রুস্তুম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত পিরোজপুরে মায়ের জমি প্রতারণা করে লিখে নিলো আপন তিন সন্তান স্বামী-সন্তান-নাতি রেখে বিয়ের দাবিতে ইউপি সদস্যর বাড়িতে গৃহবধুর অনশন “৮ম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু” পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেন মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক ভুল সংশোধন

বিক্রি করে দেয়া সেই শিশুকে বাবা-মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলেন আদালত

পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলায় অভাবের কারণে ১৮ দিন বয়সি বিক্রি করে দেওয়া সেই কন্যা শিশুটিকে আদালতের আদেশে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হস্তান্তরের পরে স্বরূপকাঠীর সমুদয়কাঠী ইউনিয়নের দুর্গাকাঠি গ্রামের বাবা পরিমল বেপারী ও মা কাজলা রানী তাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
রোববার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট পল্লবেশ্বর কু-ু এর আদালত শিশু কন্যাটিকে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেন। নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হাসান জানান, আমরা কন্যা শিশুটিকে উদ্ধার করে রোববার আদালতের কাছে পাঠাই। আদালতের আদেশে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি যান।
উল্যেখ্য, জেলার নেছারাবাদে (স্বরূপকাঠী) অভাবে পড়ে ১৮ দিনের মেয়ে শিশুকে বিক্রি করে দেন শিশুটির বাবা পরিমল ব্যাপারী। জানা যায়, উপজেলার দুর্গাকাঠি গ্রামের কথিত প্রতারক বিজন হালদার ও রনজিত কুমার পরিমলের অসাহায়াত্যের সুযোগ নিয়ে তার কাছে আসেন। তারা বলেন, মেয়েটিকে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দিলে তাকে (পরিমল) ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এনে দেবেন। মেয়েটিও সেখানে ভালো থাকবে। অভাবের কারণে সহায় সম্বলহীন পরিমল শিশুটিকে দত্তক দিতে রাজি হন। এর পরে তাদের কাছে ঢাকা থেকে প্রাইভেট কারে করে একটি বড়লোক পরিবার আসে। তারা প্রতারক বিজনের কাছে টাকা সম্পূর্ণ টাকা বুঝিয়ে দেন। এরপর তারা বাচ্চাটি নিয়ে যান। কিন্তু যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা ছিল, প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সেই আশা গুড়ে বালি হয়ে গেছে পরিমলের। পরবর্তীতে প্রতারক বিজন পরিমলের হাতে শুধু মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। প্রতারক চক্রটি তাদের সন্তান বিক্রির সিংহভাগ টাকা নিয়ে গেছে। শিশুটির বাবা প্রতারক চক্রের কাছে বাকি টাকা চাইলে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এতে ওই শিশুটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত প্রতারক চক্রের দুই সদস্য একই গ্রামের বিজন হালদার ও রনজিত কুমার ম-ল এলাকা থেকে আত্মগোপন করেন। এরপর থেকে তাদেরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানার পরে গত বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারী)রাতে নেছারাবাদ থানা পুলিশের একটি দল ওই দম্পতিকে খুঁজে বের করে ঢাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। রোববার শিশুটিকে পিরোজপুর আদালতে পাঠালে আদালতের আদেশে শিশুটিকে তার বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হলে তারা শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি যান।
শিশুটির বাবা পরিমল ব্যাপারী বলেন, তার কোনো জায়গা-জমি নেই। অন্যের ঘরে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে বাস করি। ঘটক ও দিন মজুর হিসেবে সামান্য কিছু আয় হয়। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা দিয়েই সংসার চলে। কিছু দিন আগে তার স্ত্রী একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। কদিন পর উপজেলার দুর্গাকাঠি গ্রামের বিজন হালদার ও রনজিত কুমার তার কাছে আসেন। তারা বলেন, তোমার অভাবের সংসার,মেয়েটিকে এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে দত্তক দিলে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেবেন। মেয়েটিও সেখানে ভালো থাকবে। অভাবের কারণে তিনি শিশুটিকে দত্তক দিতে রাজি হন। প্রত্যাশা ছিল, মেয়েকে বিক্রি করে দিলে বেশ কিছু নগদ টাকাও পাওয়া যাবে আর মেয়েটাও ভালো থাকবে। তবে আমি ওই বড়লোক পরিবারের নাম-ঠিকানা জানি না’। তিনি বলেন,প্রতারক বিজন হালদার তাকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকী টাকা নিজেরাই নিয়ে নেয়।

সন্তান বিক্রেতা পরিমলের স্ত্রী কাজল রানী বলেন,‘ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর থেকে আমি অসুস্থ ছিলাম। ওর মুখখানও দেখতে পারি নাই। আমি সুস্থ হইয়া জানছি আমার মাইয়াডা বিক্রি হইয়া গ্যাছে। তখন মাইয়াডার কথা মনে পড়ায় আমার বুকটা ফাইট্টা যায়’। আইজ মাইয়াডারে র্ফিরা পাইয়া আনন্দে বুকটা ভর্ইরা গেছে।
সমুদয়কাঠি ইউপি চেয়ারম্যান মো. হুমাউন আহম্মেদ বলেন, বিজন এলাকায় একজন প্রতারক প্রকৃতির লোক। শুনেছি সম্প্রতি সে রনজিৎকে নিয়ে পরিমলকে ফুসলিয়ে তার (পরিমল) ১৮ দিনের কন্যা শিশুকে ঢাকার এক বড় লোকের (ধনাঢ্য) কাছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। সেখান থেকে পাওয়া টাকার মাত্র দশ হাজার টাকা শিশুটির অসহায় পিতাকে দিয়েছে।
মোবাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বিজন হালদার দাবি করেন, দরিদ্র পরিমলের মেয়ের ‘ভবিষ্যতের কথা ভেবে’ ধনাঢ্য নিঃসন্তান এক দম্পতির কাছে দত্তকের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন তিনি। তবে টাকা লেনদেনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে ফোন কেটে দেন তিনি।
এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. আবির মোহাম্মাদ হোসেন জানান, শিশুটিকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করে আনা হয়েছে। তাকে আদালতে হাজির করলে,আদালতের আদেশে মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে শিশুটিকে বিক্রির কথা তিনি শুনেননি।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 gramersamaj.com
Design & Developed BY NCB IT