বৃহস্পতিবার, ১৮ Jul ২০২৪, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
কোটা আন্দোলনকারীদের হামলায় ছাত্রলীগের নেতা সাবাত আহত পিরোজপুরে রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক সচেতনতা সপ্তাহ পালন আওয়ামীলীগের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উপলক্ষে যুবলীগের আয়োজনে বৃক্ষ রোপন ও খাদ্য বিতরণ ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের জন্য কমিউনিটি পরিচালিত খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী’র উদ্বোধন তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে পিরোজপুরে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতার বিশুদ্ধ পানি ও খাবার স্যালাইন বিতরণ পিরোজপুরে মহান মে দিবস পালিত পিরোজপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ টাকার চেক ও টিন বিতরণ পিরোজপুরে রূপালী ব্যাংকের একাউন্ট ওপেনিং ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বিলুপ্তপ্রায় শীতল পাটি শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে রূপালী ব্যাংকের প্রকাশ্যে কৃষি ঋন বিতরন পিরোজপুরে রূপালী ব্যাংকের বার্ষিক ব্যবসায়িক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ছাত্রকে বিয়ে করে ভাইরাল সেই সহকারী অধ্যাপকের লাশ উদ্ধার

নাটোরে কলেজছাত্রকে বিয়ে করে ভাইরাল হওয়া সেই সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহারের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার ভোররাতে নাটোর শহরের বলারীপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাহারের কলেজছাত্র স্বামী মামুনকে আটক করে রেখেছে পুলিশ।

মামুন-নাহার দম্পতি নাটোর শহরের বলারীপাড়ার হাজি নান্নু মোল্লা ম্যানশনের চারতলায় ভাড়া থাকতেন।  নিহত খায়রুন নাহার গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর মোজাম্মেল হক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি উপজেলার চাঁচকৈড় পৌর এলাকার মো. খয়ের উদ্দিনের মেয়ে। মামুন হোসেন একই উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাটপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে এবং নাটোর নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ভবনের বাসিন্দা ও এলাকাবাসী জানান, রোববার ভোরে স্বামী মামুন ভবনের অন্য বাসিন্দাদের জানান, তার স্ত্রী খায়রুন নাহার শেষ রাতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। লোকজন তার বাসায় গিয়ে খায়রুন নাহারের লাশ মেঝেতে শোয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাদের সন্দেহ হয়। তারা মামুনকে বাসার মধ্যে আটকে পুলিশে খবর দেন।

এর আগে গত বছর ১২ ডিসেম্বর ছয় মাসের প্রেমের পর স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়া এক ছেলের জননী খায়রুন নাহার কাজী অফিসে গিয়ে মামুনকে গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের ছয় মাস পর গত জুলাই মাসে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে বেশ আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সারাদেশের সচেতন মানুষ ছাত্রকে শিক্ষিকার বিয়ের নিয়ে হাজারো মন্তব্য করে।

তবে তখন বর ছাত্র মামুন জোরালোভাবে বলতে থাকেন— ভালোবাসার কোনো বয়স নেই, মন্তব্য কখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তার এমন বক্তব্যও সারা দেশে ভাইরাল হয়। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার অঙ্গীকার করা আলোচিত এই ছাত্র-শিক্ষিকা দম্পতির বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় মৃত্যুর মাধ্যমে প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটল।

নাটোর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গ্রামের সমাজকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট অন্য বাহিনীর সদস্যরাও তদন্ত করবে। তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্ত হলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে হত্যা আর আত্মহত্যা যাই হোক না কেন এমনটি ঘটল তা পুলিশ খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে।

এর আগে শিক্ষিকা মোছা. খায়রুন নাহার জানিয়েছিলেন— আগের স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। দিনের পর দিন তিনি ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে থাকতেন। এর মধ্যেই ফেসবুকে তার সঙ্গে কলেজছাত্র মামুনের পরিচয় হয়। মামুনের সঙ্গে কথা বলে তিনি শান্তি অনুভব করেন। পরে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করায় ছেলের পরিবার মেনে নিলেও মেয়ের পরিবার থেকে বিয়ে মেনে নেয়নি। তাই নাটোর শহরে তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017 gramersamaj.com
Design & Developed BY NCB IT